Home ফোকাস নাশকতায় রোহিঙ্গা ব্যবহারের শঙ্কা, বিভিন্ন সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি

নাশকতায় রোহিঙ্গা ব্যবহারের শঙ্কা, বিভিন্ন সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র দল ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির তথ্য জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এক মতবিনিময় সভায় উঠে আসে বলে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়। কিছু রোহিঙ্গা অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় ভোট প্রদান বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করতে পারে।

পাহাড় সমুদ্র ডট কম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০০

Share

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেই ঢলের শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট; এরপর কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের নাশকতা সৃষ্টিতে ব্যবহারের শঙ্কা রয়েছে। এজন্য সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রোহিঙ্গাদের আটকাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছে।

গতকাল ইসির এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ ও গণভোট হবে ২৯৯ আসনে। ভোট ঘিরে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকছে।

ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আইনশৃঙ্খলা মোতায়েন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, ভোটের চার দিন আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরে দুই দিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে। এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রায় আড়াই লাখ ভোট কক্ষে ভোট দেবেন।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেই ঢলের শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট; এরপর কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে ওই এলাকার ক্যাম্পে বসবাস করছিল আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ঠেকাতে ইসির অনেক পদক্ষেপ ছিল।

এরই মধ্যে ভোটকে ঘিরে রোহিঙ্গাদের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বহির্গমন সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা, চেকপোস্টে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করাসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নির্বাচনকালীন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও নির্বাচনি কর্মকান্ডে রোহিঙ্গাদের বিরত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খালা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনকালীন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও নির্বাচনি কর্মকান্ডে রোহিঙ্গাদের বিরত রাখার জন্য উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুসারে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনকালীন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও নির্বাচনি কর্মকান্ডে রোহিঙ্গাদের বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র দল ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির তথ্য জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এক মতবিনিময় সভায় উঠে আসে বলে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়। কিছু রোহিঙ্গা অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় ভোট প্রদান বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান, ভোটের সাত দিন আগে থেকে চেকপোস্ট স্থাপন করে ভোটদানে নিবৃত করা, বিদেশিদের সতর্কভাবে চলাচলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ সুপারিশ করা হয়। আরেকটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, আসন্ন নির্বাচনে এমপি প্রার্থীদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্থানীয় প্রচারণা, ভোট কেন্দ্রে লোকবল হিসেবে ব্যবহার, টাকার বিনিময়ে জাল ভোট দেওয়া এবং বিরোধী প্রার্থী দমনের ঝুঁকি।

এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও বড় ঝুঁকি। সিআইসি আউটপাস বা অবৈধভাবে কাঁটাতার অতিক্রম করে উখিয়া-টেকনাফের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সক্রিয় বিভিন্ন সোশ্যাল গ্রুপে গুজব বা উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে ক্যাম্পের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে পারে। আরসা, আরএসও ও আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনকালীন সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

নির্বাচনকালীন রোহিঙ্গাদের নিয়ে ঝুঁকি রোধে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবিহিত করা হয়েছে। ইসির কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয়- কঠোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করা হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বহির্গমন সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা, এপিবিএনের চেকপোস্টগুলোতে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করা হবে। নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন ক্যাম্পের ভিতরে সিএনজি, অটো ও মোটরবাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা।

নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে ক্যাম্পে সক্রিয় সব সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ও রোহিঙ্গা সংগঠনের সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যেন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় জড়িত না হয়, সে বিষয়ে মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা।

বিজিবির টহল জোরদার এবং মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর বিশেষ নজরদারি, নির্বাচনকালীন দেশি-বিদেশি এনজিও কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত বা নিরুৎসাহিত করা।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জনসমাগম এড়াতে বালুখালী, লেদা ও নয়াপাড়ার মতো ক্যাম্পসংলগ্ন বড় বাজার নির্বাচনের আগের দিন, ভোটের দিন ও পরদিন সাময়িক বন্ধ রাখা।

ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রেখে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মরিচ্যা, রেজুখাল ও হোয়াইক্যং চেকপোস্টসহ ক্যাম্পের আশপাশে এপিবিএন ও বিজিবির যৌথ নজরদারি জোরদার করা। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সতর্কবার্তা দেওয়া। একই সঙ্গে এমপি প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা, টাকার বিনিময়ে জাল ভোট বা বিরোধী প্রার্থী দমনে রোহিঙ্গা ব্যবহারের ঝুঁকি ঠেকাতে এপিবিএন ও সিআইসির সমন্বয়ে ক্যাম্পে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: