Home ফোকাস ভোটের প্রাক্কালে পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি, প্রসীতের ইউপিডিএফ নিয়ে উদ্বেগ

ভোটের প্রাক্কালে পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি, প্রসীতের ইউপিডিএফ নিয়ে উদ্বেগ

দলটি সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কয়েকটি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ বাড়ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২১

Share

ইউপিডিএফ (মূল) এর আস্তানা থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা অস্ত্র । নির্বাচনে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে বলে আশংকা পাহাড়ের বাসিন্দাদের।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল)–এর তৎপরতা নিয়ে।

দলটি সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কয়েকটি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ বাড়ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই ইউপিডিএফ (মূল) পার্বত্য অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, সংঘর্ষ ও সহিংসতার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্বাচনের সময় সংগঠনটির সক্রিয় উপস্থিতি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো সশস্ত্র বা বিতর্কিত সংগঠনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে তা সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

ইউপিডিএফ (মূল) ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করে সংগঠনটি ‘পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে পার্বত্য অঞ্চলে তাদের কর্মসূচি দেখা যায়।

সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নাশকতা ও সহিংসতার অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে অনলাইন ও অফলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণাও চালানো হয়।

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ঘিরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। কিছু এলাকায় জাতীয় দিবস পালন না করা কিংবা বিতর্কিত কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়টি অতীতে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।

পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো পক্ষই সহিংসতা বা উসকানিমূলক কার্যক্রমে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার (এসপি) সায়েম মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এবং প্রার্থীরা যে কেন্দ্রগুলোতে ভোট দেবেন সেগুলোকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। যে কোন মূল্যে আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু করবো। ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিবো।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ (মূল) দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা প্রসীত বিকাশ খীসা, মাইকেল চাকমা, সচিব চাকমা, অর্কিড চাকমা, উজ্জল কুমার চাকমা ও রবি শংকর চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নানাবিধ নাশকতামূলক অপরাধের কারণে বিভিন্ন মামলায় ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত।

তারা পার্বত্যাঞ্চলের বাইরে বিশেষ করে ঢাকা ও ভারতে অবস্থান করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করতে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত ইউপিডিএফ (মূল) দলের অনলাইন একটিভিস্টদের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন অপ্রমাণিত ও অসত্য ঘটনাকে ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পার্বত্যাঞ্চলের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরোও জটিল ও বিঘ্নিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে খাগড়াছড়িতে বিএনপি প্রার্থীর ইশতেহার প্রত্যাখান করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে এই সমর্থনের পেছনে শুধু স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন নয়, বরং পার্বত্য রাজনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য ও আধিপত্য রক্ষার হিসাবই মুখ্য বলে মনে করছেন সেখানকার ভোটাররা।

তাদের মতে, এই সমর্থন মূলত আদর্শগতের চেয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যেখানে রাঙামাটিতে জেএসএসের একচেটিয়া প্রভাব ঠেকানো, পাহাড়ি রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান রাখা এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষাই ইউপিডিএফের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে রাঙামাটিতেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা পহেল চাকমাকে জোর সমর্থন দিয়েছেন ইউপিডিএফ। সংগঠনটি তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের ভোট না দিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে নিরুৎসাহিত করছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: