Home শিরোনাম পাহাড়ে উৎসবের আমেজে ভোট, সকাল থেকেই পাহাড়ি আর বাঙালি ভোটারদের ভিড়

পাহাড়ে উৎসবের আমেজে ভোট, সকাল থেকেই পাহাড়ি আর বাঙালি ভোটারদের ভিড়

ফজরের নামাজ শেষের পরপরই বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থকেরা ভোটার লিস্ট নিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী বুথে অবস্থান নেন।

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭

Share

রাঙ্গামাটির চারটি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে | বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই পাহাড়ের এই ৩ জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

শীতের সকালে উৎসবের আমেজে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে আগেভাগেই ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়েছেন ভোটাররা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই পাহাড়ের এই ৩ জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ফজরের নামাজ শেষের পরপরই বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থকেরা ভোটার লিস্ট নিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী বুথে অবস্থান নেন। উভয় দলের কর্মী-সমর্থকসহ অন্যান্য প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরাও সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রের আশপাশের অবস্থা নিয়ে ভোটারদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখা যায়নি।

এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের ৩টি সংসদীয় আসনে অন্তত ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাহাড়ি দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাঙামাটি জেলার ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে গতকাল। আজ সকাল সাড়ে ৭টা সেখানে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন প্রার্থীরা।

তবে জেলার ১৬১টি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা নেই এবং ৩৬টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ অনুপস্থিত। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিকল্প ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাঙ্গামাটি আসনটি দু’টি পৌরসভা ও ১০ উপজেলার ৫০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটারসংখ্যা পাঁচ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ এবং নারী দুই লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। বাঘাইছড়ি ও সাজেকের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতেও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে।

নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে লড়াই হচ্ছে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খেলাফত মজলিশের আবু বকর ছিদ্দিক এবং ইউপিডিএফ সমর্থিত পহেল চাকমার ভেতর।

এদিকে খাগড়াছড়িতে ভোট দিয়ে দেশে ইনসাফের প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে ৮ নম্বর পৌর ওয়ার্ডে শিশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। 

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডাকসু ভিপি বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ভূমিকা রাখতে নতুন প্রজন্মকে সোচ্চার থাকতে হবে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার বিজয় এবং এই ভোট জনগণের বিজয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ২শ ৬ জন ও নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ৪ ভোটসহ এবার নতুন ভোটার প্রায় ২৭ হাজারের বেশি। জেলার ৯ উপজেলায় ২০৩টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এখানে লড়াই হচ্ছে বিএনপির ওয়াদুদ ভূইয়া এবং জামায়াতের অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলীর ভেতর।

অন্যদিকে ৩০০ নং বান্দরবান আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে এয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম। জেলার সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ন ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপির সাচিং প্রু জেরী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি -এনসিপির আবু সাঈদ মো.সুজাউদ্দীনের ভেতর।

৭উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে বান্দরবান ৩০০ নং আসনে বাঙালিসহ ১২টি সম্প্রদায়ের বসবাস। এবারে এই আসনে ৪জন প্রার্থী ভোটে অংশগ্রহণ করছে আর মোট ভোটার ৩লক্ষ ১৫হাজার ৪৪২ জন, মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৭টি আর হেলিসটি কেন্দ্র রয়েছে ১১টি।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: