ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বান্দরবান ৩০০ নং আসনের লামা উপজেলায় শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ৪২টি কেন্দ্র একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাচিং প্রু জেরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মো. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন এবং জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সকালে লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। ভোট দিতে আসা ছিদ্দিকুর রহমান (৬০) বলেন, অনেক দিন ভোট দিতে পারিনি। তাই সকাল থেকেই কেন্দ্রে এসেছি। ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ঈদের আনন্দের মতো অনুভূতি।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কাজী আশরাফ মাহমুদ জানান, কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৩৩৬৫ জন। নির্ধারিত সময়েই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার মমতাজ বেগম জানান, ১৬ বছর পর প্রথমবার মন খুলে ভোট দিতে পেরে খুশি।
সকালেই ভোট দিতে আসেন মংছিংপ্রু মার্মা (৪৭)। তিনি বলেন, বেলা বাড়লে চাপ বাড়ে, তাই ভোরে ভোট দিতে এসেছি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় নারী ভোটারসহ সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বান্দরবান ৩০০ নং আসনের অধীনে ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। লামা উপজেলায় মোট ৪২টি ভোটকেন্দ্র এবং ২২৩টি ভোটকক্ষ। এর মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৫৫৪ জন; এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৪ হাজার ৯২৮ জন, নারী ভোটার ৪২ হাজার ৬২৬ জন। এ ছাড়া ১,২৭৫ জন সরকারি চাকরিজীবি পোস্টাল ব্যালেটের জন্য আবেদন করেছেন।


