কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমান বাহিনীর পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে দেশের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম-সংকটের কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পাঁচজন সংসদ সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং কূটনীতিকসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন।
সেনাপ্রধান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনেনি। কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম এলাকায় পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলে হয়তো রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টিই হতো না। তিনি বলেন, আজ এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে হয়তো ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পর্যাপ্ত ওপিভি না থাকায় ছোট করভেট দিয়ে সাগরে টহল দিতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী নয়। আমদানি-রপ্তানিনির্ভর দেশ হিসেবে সমুদ্রপথ সুরক্ষায় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি বলে মত দেন তিনি।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গও তোলেন সেনাপ্রধান। এনডিসিতে আসার পথে মানুষকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান তিনি। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে মাত্র একটি তেল শোধনাগার থাকায় উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। বাকি সব পরিশোধিত জ্বালানি চড়া দামে আমদানি করতে হয়। রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করতে না পারার পেছনেও এই রিফাইনারি-সংকটই দায়ী বলে জানান তিনি।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া পররাষ্ট্রনীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, যে সংগঠনের জবাবদিহিতা নেই, সে সংগঠন কখনো এগোতে পারে না।


