Home ফোকাস শাহাদাতের মেয়াদ-বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘চসিক প্রশাসক’ — স্লিপ অব টাং, নাকি অন্য কোন ইঙ্গিত?

শাহাদাতের মেয়াদ-বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘চসিক প্রশাসক’ — স্লিপ অব টাং, নাকি অন্য কোন ইঙ্গিত?

কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদকাল ঘিরে চলছে বিতর্ক। শাহাদাতের দাবি,আদালতের আদেশে তিনি মেয়র, তার মেয়াদ ফুরোবে ২০২৯ সালের ১০ নভেম্বর। তাঁর এ কথায় যেন ঘি ঢেলে দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫

Share

কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদকাল ঘিরে চলছে বিতর্ক। শাহাদাতের দাবি,আদালতের আদেশে তিনি মেয়র, তার মেয়াদ ফুরোবে ২০২৯ সালের ১০ নভেম্বর। তাঁর এ কথায় যেন ঘি ঢেলে দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহাদাতকে তিনি সম্বোধন করলেন ‘প্রশাসক’ হিসেবে। কিন্তু চসিকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রশাসক নেই।

প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘প্রশাসক’ সম্বোধন স্লিপ অব টাং, নাকি মেয়াদ-বিতর্কে সরকারের নিজস্ব অবস্থানের ইঙ্গিত?

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে প্রশাসক আছেন, ওনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি এর মধ্যেই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছেন।’

চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, ‘এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাটা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।’

প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েও পিছু হটে সরকার

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের জন্য মার্চেই প্রস্তাবসহ নথি তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু আদেশ জারি না করেই সেই নথি সরিয়ে রাখা হয় বলে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।

ওই নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, আদালত শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করলেও মেয়াদের কোনো নির্দেশনা ছিল না। স্থানীয় সরকার আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী চসিকের বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। এমনকি নথিতে এটাও উল্লেখ ছিল, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসক পদে নিয়োজিত করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শাহাদাত হোসেন মেয়র পদে থাকার পক্ষে আইনি ব্যাখ্যাসহ নথিপত্র দিয়ে গেছেন, যা এখনো পর্যালোচনা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বিলুপ্ত করা হয়। আগের আইনে বলা ছিল, মেয়াদ শেষ হলেও পুনর্গঠিত কর্পোরেশনের প্রথম সভা না হওয়া পর্যন্ত আগের পর্ষদ দায়িত্ব পালন করে যাবে। সেই সুরক্ষাবলয় এখন আর নেই। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় শাহাদাতের পদে থাকার আইনি ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

মেয়াদ প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন ভাষ্য, আদালত নির্বাচন বাতিল করে বৈধভাবে মেয়র ঘোষণা করেছে তাকে। তার মতে, এটি ফল নয় কোনো উপ-নির্বাচনের, বরং তার রয়েছে পূর্ণ মেয়াদের অধিকার।

সোমবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমার সাড়ে তিন বছরের সময় কেড়ে নেওয়া হয়েছে অন্যায়ভাবে, যা আমার ন্যায্য অধিকার।’

তার মতে মেয়াদ গণনা শুরু হবে তার শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকে, আগের মেয়রের সময় থেকে নয় জানালেন চসিক মেয়র।

তবে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা এলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘আমি চাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং প্রস্তুত আছি যে কোনো সময় নির্বাচনে অংশ নিতে।’

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: