দীর্ঘ এক বছর ১৭ দিন পর মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই ট্রলার ভিড়েছে টেকনাফ স্থলবন্দরে। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বন্ধ থাকা আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আবারও সচল হওয়ায় প্রাণ ফিরছে বন্দরে।
কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। তবে বাণিজ্য আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তারা। দীর্ঘ বিরতির পর পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রমে গতি ফেরার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ এক বছর ১৭ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি কার্যক্রম। শুক্রবার (০১ মে) দুপুর ০১ টা ১০ মিনিটে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার ভিড়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটি ঘাটে। ঘাটে ট্রলার ভিড়তেই বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ট্রলারটিতে এসেছে চাম্পাফুল ও গর্জন প্রজাতির কাঠ। দীর্ঘদিন পর পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে এতদিন বন্ধ ছিল দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রম। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু ফের বন্দরে মিয়ানমারের পতাকাবাহী ট্রলার পৌছানো ও বন্দরের কার্যক্রম চালু হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। তবে নিয়মিত আমদানি-রফতানির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের আরও সহযোগিতা চান তারা।
বন্দরের শ্রমিক মো. মনজু বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় তাদের আনন্দের সীমা নেই। তিনি জানান, বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে কাজ না থাকায় কষ্টে ছিলেন। আজ পণ্যবাহী ট্রলার আসায় তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং সবাই অত্যন্ত খুশি।
বন্দর ব্যবসায়ী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর টেকনাফ বন্দরে পণ্যবাহী ট্রলার আসায় বন্দর এলাকায় প্রাণ ফিরেছে। এতে দেশের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং টেকনাফবাসীর জন্য এটি গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, বন্দর চালু হওয়ায় হাজারো শ্রমিক ও দিনমজুরের জীবিকা আবার সচল হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করে আগের মতোই বন্দর কার্যক্রম সচল রাখবেন।
আমদানিকারক ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন পর টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি উল্লেখ করেন, এ নিয়ে টেকনাফের মানুষ অনেকদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিল, কারণ বন্দর বন্ধ থাকায় অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছিলেন। তাই এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়াকে তিনি টেকনাফের জন্য একটি সুখবর হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করলে ধারাবাহিকভাবে আরও পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি সচল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে আমদানি-রফতানি চালু থাকলে টেকনাফ স্থলবন্দরে আবারও গতি ফিরবে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, এক বছর ১৭ দিন পর মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার বন্দরে এসে পৌঁছেছে। চালানটিতে চাম্পাফুল ও গর্জন-এই দুই ধরনের মোট ৯৬৩ পিস কাঠ রয়েছে, যার আনুমানিক আমদানি মূল্য প্রায় ১৬ হাজার ১২০ ডলার। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসআইএস ইন্টারন্যাশনাল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ট্রলারটি বন্দরে নোঙর করা রয়েছে। পণ্য আনলোডিং শেষে আইজিএম ও বিল অব লেডিং জমা দেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করে সরকারি রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে পণ্য খালাস দেওয়া হবে।
তিনি জানান, রাজস্ব আদায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেহেতু পহেলা মে থেকে পুনরায় পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে, তাই ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে পণ্য আসবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করে দ্রুত পণ্য খালাস এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, সারাদেশেই বৈধ ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব, যা অবৈধ ব্যবসা প্রতিরোধেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কারণবশত টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবে বর্তমানে তা পুনরায় চালু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের পর সবাই মিলে বন্দরটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেকনাফের মানুষ ধীরে ধীরে অবৈধ ব্যবসা থেকে সরে এসে বৈধ ব্যবসায় যুক্ত হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
দীর্ঘ বিরতির পর মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় টেকনাফ স্থলবন্দরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সীমান্ত বাণিজ্য আবারও পুরোদমে চালু হবে।


