Home জাতীয় হাইকোর্টের জাল আদেশ বানিয়ে বেরিয়ে গেলেন কুকি-চিনের পোশাক মামলার প্রধান আসামি, ঘটনা তদন্তে ৪৮ ঘণ্টার সময় প্রধান বিচারপতির

হাইকোর্টের জাল আদেশ বানিয়ে বেরিয়ে গেলেন কুকি-চিনের পোশাক মামলার প্রধান আসামি, ঘটনা তদন্তে ৪৮ ঘণ্টার সময় প্রধান বিচারপতির

হাইকোর্টের জামিন আদেশ জাল করে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য পোশাক সরবরাহের মামলার প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলাম (২৫)। ঘটনা জানার পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২ মে ২০২৬, ০২:৫০

Share

হাইকোর্টের জামিন আদেশ জাল করে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য পোশাক সরবরাহের মামলার প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলাম (২৫)। ঘটনা জানার পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিনি বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় সাত মাস আগে সাহেদুল হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের বেঞ্চে শুনানির সময় আদালতে উপস্থাপন করা হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার এজাহার ও তথ্য, যেখানে কুকি-চিন-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ ছিল না। বিভ্রান্ত আদালত জামিন মঞ্জুর করেন এবং বিচারপতিরা আদেশে সই করেন।

এরপরই ঘটে মূল জালিয়াতি। সই করা আদেশের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে মামলার তথ্য, থানার নাম ও অভিযোগের ধারা মুছে সেখানে বসিয়ে দেওয়া হয় কুকি-চিনের পোশাক মামলার নম্বর ও ধারা। এই জাল আদেশ দেখিয়েই কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাহেদুলের মুক্তি বের করে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ধরা পড়ে চলতি সপ্তাহে। একই মামলার আরেক আসামি হাইকোর্টে জামিন চাইতে গিয়ে সাহেদুলের সেই আদেশটি নজির হিসেবে উপস্থাপন করেন। তখনই নথিতে অসঙ্গতি চোখে পড়ে এবং বিষয়টি সামনে আসে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর গুদামে অভিযান চালিয়ে কেএনএফের জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এই পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় সাহেদুলসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। বাকি দুজন হলেন গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দার (৩৯)।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে জামিনের ঘটনা সত্য এবং তদন্ত চলছে। আদালত প্রশাসন বলছে, হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এত বড় জালিয়াতি সম্ভব নয়। সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

আইনজীবীরাও বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতরে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো অসম্ভব। দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: