রশিদ দিয়েছেন, কিন্তু টাকা অ্যাকাউন্টে যায়নি। সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে এখন দিশেহারা রাঙামাটির লংগদুর কয়েকশো পরিবার। ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মালিক মো. রাসেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার থেকে আউটলেট তালাবদ্ধ, মালিক আত্মগোপনে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁরা নিয়মিত টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিতেন। কিন্তু সেই টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন রাসেল। উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এফডিআরের নামেও লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল, কিন্তু তা প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকে জমা করা হয়নি।
ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন বলেন, ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে গেছে।
লংগদু সরকারি মডেল কলেজের প্রভাষক আজগর আলী জানান, তাঁর স্ত্রী তিন মাস মেয়াদি এফডিআরের জন্য পাঁচ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। চেকে টাকা নেওয়া হলেও কোনো ডকুমেন্ট দেওয়া হয়নি। এখন মালিক পালিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
আউটলেটের কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, রাসেল মূলত ঋণগ্রস্ত ছিলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যয় করে লোকসানে পড়েন। বারবার অনুরোধ করলেও টাকা অ্যাকাউন্টে জমা দেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এলাকা ছেড়ে পালান।
রাঙামাটি ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সোমবার থেকে আউটলেট মালিক নিখোঁজ। বিশেষ তদন্ত টিম কাজ করছে। যেসব লেনদেন নিয়মিত অ্যাকাউন্টে হয়েছে সেসব আমানত নিরাপদ। তবে অনিয়মিত লেনদেনের দায় ব্যাংক নেবে না।
লংগদু থানার ওসি মো. জাকারিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত রাসেলের মামা ও মাইনীমূখ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জানতে পেরেছেন রাসেল গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, লংগদুতে ব্যাংক এশিয়া, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটগুলোতে লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


