খুলশীর ওয়াসা মোড়ের একটি ফাস্টফুডের দোকান। বাইরে থেকে দেখলে একেবারে সাধারণ। কিন্তু ভেতরে লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তলের ১৩৯ রাউন্ড তাজা গুলি। শুক্রবার রাতে সেখানে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতার হন মো. ফয়সাল আহমেদ রনি (৪০)। তাঁর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে চকবাজারের দামপাড়া থেকে গ্রেফতার হন আরেক অস্ত্র ব্যবসায়ী আমিনুল হক বাপ্পী (৩৯)। তাঁর কাছ থেকে মেলে আরও ১১ রাউন্ড। দুই অভিযানে মোট উদ্ধার ১৫০ রাউন্ড বিদেশি পিস্তলের গুলি।
কিন্তু উদ্ধারের চেয়েও বড় যে তথ্য সামনে এসেছে তা হলো এই গুলির উৎস।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি পুলিশকে জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উৎস থেকে এসব গুলি সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম নগরীতে মজুদ রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই — শহরের অপরাধ জগতে সরবরাহ করা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস, ইউপিডিএফসহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। চাঁদাবাজি, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে জমা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি পথে এসব অস্ত্র আসে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘদিনের ধারণা। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এতদিন পাহাড়ের এই অস্ত্র পাহাড়েই ব্যবহার হতো বলে ধরে নেওয়া হতো। চট্টগ্রামের এই উদ্ধার সেই ধারণায় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পাহাড় থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন পথ খুঁজে নিচ্ছে সমতলের শহরেও — মাঝখানে থাকছে দালাল চক্র, যারা দুই জগতের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করছে।
শনিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।


