Home ফোকাস ভোট আসে–যায়, উন্নয়ন থেমে থাকে রাঙ্গামাটিতে, বিকশিত হয়নি পর্যটন খাত

ভোট আসে–যায়, উন্নয়ন থেমে থাকে রাঙ্গামাটিতে, বিকশিত হয়নি পর্যটন খাত

রাঙ্গামাটি পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এখানে কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। সরকারগুলো মুখে সম্ভাবনার কথা বললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। উন্নয়নের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

পাহাড় সমুদ্র ডট কম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪

Share

উপজেলায় পাঠানোর জন্য গোছানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

হ্রদ, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে পিছিয়ে আছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতিতে এ খাত বিকশিত হয়নি। শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত। ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে জেলার অবস্থান এখনও তলানিতে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

৬ হাজার ১১৬ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙ্গামাটি দেশের আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা। জেলার বুকজুড়ে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদ ও চারপাশে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্য তৈরি করেছে। তবে পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় চাষযোগ্য জমি কম। জুম চাষ, বনজসম্পদ, মৎস্য আহরণ ও পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল এই জেলার অর্থনীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি।

সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের দিক থেকেও রাঙ্গামাটি পিছিয়ে। জেলার মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন হলেও সংসদীয় আসন মাত্র একটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন ৩৪ হাজার ৯১৩ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে উন্নয়ন থেমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, রাঙ্গামাটি পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এখানে কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। সরকারগুলো মুখে সম্ভাবনার কথা বললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। উন্নয়নের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

ইন্টু মনি চাকমা বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের জন্য কোনো কার্যকর কমিশন বা পরিকল্পনা দেখা যায়নি। সব সরকারই আমাদের অবহেলার চোখে দেখেছে।

দুপ্রক রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, রাঙ্গামাটি বহু জাতি ও সংস্কৃতির মিলনস্থল হলেও পরিবেশ ও সামাজিক দিক থেকে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতিগত বিরোধ ছড়িয়ে পড়ার অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে প্রশাসন ও সরকারের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

রাঙ্গামাটি জেলায় বর্তমানে ১৩ ভাষাভাষী ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন মানুষ বসবাস করছে। বৈচিত্র্যময় এই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারলে জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: