Home কক্সবাজার ভোট ঘনিয়ে আসতেই কড়া নজর: ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গা নিয়ে কেন নতুন করে উদ্বিগ্ন প্রশাসন

ভোট ঘনিয়ে আসতেই কড়া নজর: ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গা নিয়ে কেন নতুন করে উদ্বিগ্ন প্রশাসন

পাহাড় সমুদ্র ডট কম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২১

Share

উখিয়ায় গ্রেপ্তার রোহিঙ্গারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রশাসন সতর্ক। কক্সবাজারের চারটি আসনে ভোটার প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দালালচক্রের সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ভোটার হয়েছেন। এর প্রভাব শুধু কক্সবাজার নয়, সারাদেশের নির্বাচনী ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভোটার হয়ে ওঠার ফলে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। বিভিন্ন প্রার্থী তাদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। এ অবস্থায় দেশব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ফেরাতে তোড়জোড় শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। সবশেষ রবিবার ভোরে উখিয়ার বালুখালী এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৭ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের শঙ্কা রয়েছে। তাই ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সারাদেশের জন্য ঝুঁকি এ কারণে, যে এই রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার আইডি নিয়ে দেশি-বিদেশি কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক দালাল ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। দেশি ও বিদেশি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পে প্রবেশ সহজ, ফলে মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, কক্সবাজারের ৭১ ইউনিয়নে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। এনআইডি ও পাসপোর্ট করতে ৫–১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও দালালচক্রও জড়িত। ২০২১ সালে এ বিষয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া শুধু কক্সবাজার নয়, সারাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। রাজনৈতিক নেতারা ভোটের রাজনীতি করেন, তাই আইনি পদক্ষেপ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

নির্বাচনের আগে এই ঘটনা প্রমাণ করছে, ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও নির্বাচনী ঝুঁকি হিসেবে সারাদেশে নজরে রয়েছে। ভোটের অঙ্কের কাছে আইন ও শৃঙ্খলা কতটা অগ্রাধিকার পাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: