Home জাতীয় গত দেড় দশকে দেশের ব্যাংক সেক্টরে ব্যাপক লুটপাট, নির্বাচিত সরকার কি শক্ত হাতে সামলাবে আর্থিক খাত?

গত দেড় দশকে দেশের ব্যাংক সেক্টরে ব্যাপক লুটপাট, নির্বাচিত সরকার কি শক্ত হাতে সামলাবে আর্থিক খাত?

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৭

Share

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে ঝকঝকে অবকাঠামো বেড়েছে। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে রয়েছে সাধারণ মানুষের আমানতের অর্থ লোপাটের চাপা হাহাকার।

গত দেড় দশক ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকের যোগসাজশে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আসন্ন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার আমলে এসব প্রতিষ্ঠান কতটা সুশাসনের মধ্যে থাকবে-সে প্রশ্নে উদ্বিগ্ন গ্রাহক ও অর্থনীতিবিদরা। নতুন কোনো ‘শকুনের চোখ’ যেন ব্যাংক খাতের দিকে না পড়ে; এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট ও দৃঢ় অঙ্গীকার চান সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর মতিঝিল দেশের ব্যাংক পাড়া হিসেবে পরিচিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে ঝকঝকে অবকাঠামো বেড়েছে। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে রয়েছে সাধারণ মানুষের আমানতের অর্থ লোপাটের চাপা হাহাকার।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের (২০০৯-২০২৪) শাসনামলে দেশের ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কাগজে-কলমে হিসাবের সফটওয়্যারে লাখ লাখ কোটি টাকা দেখানো হলেও বাস্তবে বড় একটি অংশই লুটপাট হয়েছে।

এখন অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে পড়া আর্থিক খাতকে কিছুটা গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এর মধ্যেই দ্বারপ্রান্তে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রশ্ন উঠেছে-আসন্ন নির্বাচিত সরকার কি শক্ত হাতে আর্থিক খাতের হাল ধরবে, নাকি আবারও প্রভাবশালীদের কবলে পড়ে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের কোষাগার ঝুঁকিতে পড়বে?

ব্যাংক গ্রাহকরা বলছেন, আমরা যদি ব্যাংকে টাকা রাখি, আর বড় বড় রাঘববোয়ালরা যদি সেই টাকা তুলে নেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। যে সরকারই আসুক, রাজনৈতিক সরকার পরিচালিত হলেও ব্যাংকিং খাত যেন সৎ ও নিরপেক্ষ থাকে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নিজ নিজ দায়িত্বের পরিসরে থাকতে হবে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবুর রহমান বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বের হয়ে আসতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংক খাত যেন নির্ধারিত নীতির বাইরে না যায়-এমন প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজন। অন্যথায় এর খেসারত দিতে হবে পুরো দেশকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন, আগের বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশগুলো পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার যেন কার্যকর রাখে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত যেন তারা না নেয়।

জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকতে হবে-পেছনের হিসাব কষাকষির বদলে নিয়ম মেনে সামনে এগোনোর প্রতিশ্রুতি।

অতীতে প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক সরকারের আমলেই ব্যবসার নামে কমবেশি সাধারণ মানুষের আমানত লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকার আর্থিক খাতে কতটা সুশাসন নিশ্চিত করবে এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে-সেই দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: