বান্দরবান পার্বত্য জেলার একমাত্র আসনে ভোটের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। পাহাড়ি, বনভূমি ও নদীময় জনপদে ভোটাররা সক্রিয়, আর প্রতিটি জনসভা, পথসভা এবং প্রচারণা এখন তাদের চোখে চোখে। এবার বিএনপির সাচিং প্রু জেরী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আবু সাঈদ সুজা উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল নাম, যারা জেলার প্রায় সব উপজেলায় সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। ফলে নির্বাচনী উত্তাপের সঙ্গে ভোটারদের কৌতূহলও বাড়ছে—এবার কার হবে জয়, এনসিপির সুজা নাকি রাজপুত্র জেরী?
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বান্দরবান আসনকে আগে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে দেখা হতো। এবার তারা নির্বাচনের বাইরে থাকায় চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টেছে। আ. লীগ, পিসিজেএসএস এবং জামায়াতের কোনো প্রার্থী না থাকায় ‘৩ না’-র সুবিধা নিতে পারেন বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী।
এবার ভোটারদের দৃষ্টি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কার কৌশল কার্যকর হবে এবং কে জনসংযোগে এগোচ্ছে—এসবকেই কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে নতুন ভোটারদের সংযোজনও।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীনের বাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে। অথচ নির্বাচন করছেন বান্দরবানে। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে খোদ এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। ফলে এসব বিষয় বিএনপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এই আসনে অন্য দুই প্রার্থী হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, যাদের নির্বাচনী প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম।
ভোটাররা জানিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন ও বান্দরবানের উন্নয়ন চান। স্থানীয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সৈয়দ নূর বলেন, এবার বিএনপির সুযোগ ভালো, কিন্তু এনসিপি পরিচিতি কম।
বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে উন্নয়ন।
এনসিপি প্রার্থী সুজা উদ্দীন বলছেন, ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। পাহাড়ি এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ঋণ সুবিধা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল কালামও ভোটারদের কাছে সমান সরকারি বরাদ্দ ও বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বান্দরবান আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ ও নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৯ জন। জেলার ৭টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়নে মোট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্র, এর মধ্যে ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।


