১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগর ও জেলা মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যা এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে একটি বড় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। এদিকে চট্টগ্রামের নির্বাচনের পরিবেশ স্বস্তিকর বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
জানা গেছে, এবারের নির্বচনে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, এপিবিএন, বিজিবি, আনসার, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাহিনীগুলো।
এদিকে চট্টগ্রাম, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ২০টি আসনে র্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ হিসেবে ৫০টি টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন নিরাপদ করতে কাজ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশীদ জানান, নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট ও সমন্বিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, সব সদস্যকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবারের নির্বাচনে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরজমিনে নির্বাচনের আগের দিন আজ চট্টগ্রাম নগরী ঘুরে দেখা গেছে, তুলনামূলক শান্ত রয়েছে পরিবেশ। কাতালগঞ্জ, চকবাজার, কলেজ রোড, জামালখান, কাজির দেউড়ি, লালখানবাজার, এমএম আলী রোড, গোলপাহাড় মোড় ও প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। গণপরিবহন সীমিত আকারে চললেও সড়কে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যাই বেশি ছিল। শহরজুড়ে ছুটির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।


