Home খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়িতে জ্বালানি সংকটে কাজ হারিয়েছেন হাজারো বাইকচালক, দিন চলছে না অনেক পরিবারের

খাগড়াছড়িতে জ্বালানি সংকটে কাজ হারিয়েছেন হাজারো বাইকচালক, দিন চলছে না অনেক পরিবারের

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে মোটরসাইকেল ছাড়া জীবন অচল। ডাক্তারের কাছে যাওয়া, বাজার করা, স্কুলে পৌঁছানো — সবকিছুতেই এই অঞ্চলের মানুষ নির্ভর করেন স্থানীয় বাইকচালকদের ওপর। কিন্তু সেই চালকরাই এখন নিজেরা বিপদে। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে খাগড়াছড়িতে কার্যত থেমে গেছে হাজারো পরিবারের রুটিরোজি।
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১

Share

খাগড়াছড়িতে তেল সংকটে পাম্পে দীর্ঘ সারি

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে মোটরসাইকেল ছাড়া জীবন অচল। ডাক্তারের কাছে যাওয়া, বাজার করা, স্কুলে পৌঁছানো — সবকিছুতেই এই অঞ্চলের মানুষ নির্ভর করেন স্থানীয় বাইকচালকদের ওপর। কিন্তু সেই চালকরাই এখন নিজেরা বিপদে। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে খাগড়াছড়িতে কার্যত থেমে গেছে হাজারো পরিবারের রুটিরোজি।

জেলার ৯টি উপজেলায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন চার থেকে পাঁচ হাজার চালক। তেলের সংকটে তাঁদের অধিকাংশই এখন কাজহীন। কেউ নেমেছেন দিনমজুরিতে, কেউ ধরেছেন রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ — যে কাজ অনিয়মিত, মজুরি অনিশ্চিত।

ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তবু খালি হাতে ফেরা
জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন এখন বন্ধ থাকে। যেগুলো খোলে, সেখানে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন। তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল না মেলাটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো পাওয়া গেলেও মেলে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার — সারাদিন চালানো দূরে থাক, কয়েক ট্রিপও হয় না এতে।

এই পরিস্থিতিতে চালকদের দৈনিক আয় তলানিতে এসে ঠেকেছে। যেখানে আগে দিনে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা উপার্জন হতো, এখন অনেকের সেই আয় শূন্য।

স্বপ্ন ছিল ছোট, সংকট হয়েছে বড়
এই চালকদের বেশিরভাগই নিম্নআয়ের মানুষ। কেউ গার্মেন্টসে কাজ করে জমানো টাকায়, কেউ পরিবারের সোনাগহনা বিক্রি করে কিনেছিলেন মোটরসাইকেল। স্বপ্নটা ছিল সামান্য — নিজের একটা আয়ের পথ, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, সংসারের ছোট ছোট চাহিদা মেটানো। সেই স্বপ্নে এখন বড় ধাক্কা।

পানছড়ির বাসিন্দা কৌশিক ত্রিপুরা প্রায় এক যুগ ধরে ভাড়ায় বাইক চালান। তিনি জানান, গার্মেন্টসে কাজ করে জমানো টাকা আর মায়ের সোনার কানের দুল বিক্রির টাকায় কেনা মোটরসাইকেলটাই ছিল তাঁর সংসারের একমাত্র ভরসা। তেল না পেয়ে সেই বাইক এখন উঠানে দাঁড়িয়ে। কয়েকদিন এভাবে চললে পথে বসতে হবে বলে আশঙ্কা তাঁর।

দুই সন্তানের বাবা জয়নাল আবেদিন মোটরসাইকেল চালিয়েই ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন — তবে সেই কাজও নিয়মিত নয়। মাটিরাঙ্গার অগ্যজাই মারমাও একই পরিস্থিতিতে পড়ে চলে গেছেন অন্যের জমিতে দিনমজুরিতে।

প্রশাসনের দাবি ‘কৃত্রিম সংকট’
মোটরসাইকেল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান সুমন জানান, তেলের সংকটে জেলার চার থেকে পাঁচ হাজার চালকের প্রায় সবাই কাজ হারিয়েছেন। তিনি বলছেন, সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও গভীর হবে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের দাবি, প্রকৃত সংকট নেই — কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারি আর বারবার তেল নেওয়ার প্রবণতায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। প্রশাসন নজর রাখছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: