সাড়ে তিন বছর আগে লুসাইলের সেই রাতটা মনে আছে? মেসির হাতে বিশ্বকাপ, গ্যালারিতে লক্ষ কণ্ঠের গর্জন। সেই আর্জেন্টিনা আর এই আর্জেন্টিনার মধ্যে ফারাকটা এখন বেশ স্পষ্ট।
গত শুক্রবার বুয়েনস এইরেসে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৫তম মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে কোনোরকমে ২-১ জয়। ম্যাচের পর স্কালোনি নিজেই স্বীকার করলেন, ‘ম্যাচটা আমরা ভালো খেলিনি, এটাই বাস্তব।’ গোলরক্ষক মার্তিনেজ আরও সরাসরি — ‘এটা আমাদের খেলা সবচেয়ে খারাপ প্রীতি ম্যাচগুলোর একটা।’
কাগজে-কলমে বাছাইপর্ব চমৎকার — কনমেবল টেবিলে শীর্ষে, মেসি শীর্ষ গোলদাতা। কিন্তু উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের কাছে হার, ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র — এই ফলগুলো সংখ্যার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। কোপা আমেরিকা জিতলেও সেই টুর্নামেন্টে সেরা ফুটবল খেলেনি আর্জেন্টিনা। যেন জিতছে, কিন্তু উড়তে পারছে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মেসিকে ঘিরে। ৩৭ বছরে এসে তিনি বিশ্বকাপ খেলবেন কি না, সেটা এখনো ধোঁয়াশা। স্কালোনি চান তিনি থাকুন, কিন্তু সিদ্ধান্তটা মেসির নিজের। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত গেলে আট ম্যাচ — সাঁইত্রিশ বছরের শরীর কতটুকু নেবে, সেই দ্বিধা স্বয়ং কোচেরও।
দলের বাকি ছবিটাও উজ্জ্বল নয়। দি মারিয়া অবসরে, ওতামেন্দির বয়স ৩৮, রোমেরোর ক্লাব রেলিগেশনের শঙ্কায়, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ইনজুরিতে। মাঝমাঠে ফার্নান্দেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টার দুজনেই এই মৌসুমে অধারাবাহিক। আশার আলো যেটুকু — আলভারেজ ফর্মে, লাওতারো দুর্দান্ত, তরুণ নিকো পাজ চমকে দিতে পারেন।
স্পেন ও ফ্রান্স প্রতিটি পজিশনে আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে। ২০২২-এ সৌদি আরবের কাছে হেরেও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এই দল, সেই মনোবলটুকু এখনো আছে কি না — সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আর সব প্রশ্নের শেষে একটাই জিজ্ঞাসা — মেসির পায়ে কি এখনো সেই অলৌকিকতা অবশিষ্ট আছে?


