Home খাগড়াছড়ি সাফজয়ী দুই বোনের খোঁজ এখন আর কেউ রাখে না, একজন অস্থায়ী কর্মচারী আরেকজন টিউশনির টাকায় পড়ছেন

সাফজয়ী দুই বোনের খোঁজ এখন আর কেউ রাখে না, একজন অস্থায়ী কর্মচারী আরেকজন টিউশনির টাকায় পড়ছেন

২০২১ সালের সেই সন্ধ্যার কথা মনে আছে? ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। প্রতিপক্ষ ভারত। গোলশূন্য ম্যাচ, দম বন্ধ করা উত্তেজনা। ঠিক সেই মুহূর্তে বল জালে পাঠালেন আনাই মগিনি। ১-০। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। উল্লাসে ফেটে পড়েছিল গ্যালারি।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৩

Share

২০২১ সালের সেই সন্ধ্যার কথা মনে আছে? ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। প্রতিপক্ষ ভারত। গোলশূন্য ম্যাচ, দম বন্ধ করা উত্তেজনা। ঠিক সেই মুহূর্তে বল জালে পাঠালেন আনাই মগিনি। ১-০। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। উল্লাসে ফেটে পড়েছিল গ্যালারি।

সেই আনাই এখন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের অস্থায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। মাসে ১০ হাজার টাকা। সেই টাকায় চলেন নিজে, চলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। মাঝে মাঝে পাঠাতে হয় ছোট বোনকেও। আর প্রায় দুই বছর ধরে মাঠেই নামেননি তিনি।

খাগড়াছড়ির সাত ভাইয়া গ্রামে টিনের ছাউনি আর মাটির উঠানের যে ছোট্ট ঘরে দুই বোনের জন্ম, সেই ঘরটা এখন তিন কক্ষের সেমি পাকা। ফুটবল খেলে যা আয় হয়েছিল, তা দিয়ে দুই বোন মিলে এটুকুই গড়তে পেরেছেন।

বাবা রিপ্রু মগিনি ও মা আপ্রমা মগিনির অভাবের সংসারে একসময় দুই নবজাতকের খাবার জোগানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় শিক্ষক বীরসেন চাকমার হাত ধরে সেই ঘর থেকে মাঠে এসেছিলেন দুই বোন। ২০১৬ সাল থেকে বয়সভিত্তিক দলে খেলতে শুরু করেন। তারপর একধাপ একধাপ করে উঠে আসেন দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

কিন্তু সাফল্যের সেই আলো বেশি দিন টেকেনি। জাতীয় দলে ডাক পেলেও একের পর এক টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে থাকেন আনাই। ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছোট বোন আনুচিং দলে সুযোগ পেলেন, আনাই থাকলেন বাইরে। বারবার এই উপেক্ষার ভার একসময় অসহ্য হয়ে উঠল। মাত্র ২১ বছর বয়সে ফুটবলকে বিদায় জানালেন আনাই। তাঁর পথ ধরে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ালেন আনুচিংও।

সম্প্রতি কথা হয় আনাইয়ের সঙ্গে। গলায় আক্ষেপ, চোখে ক্লান্তি। বললেন, ‘একসময় সবাই খোঁজ নিত। এখন কেউ খোঁজ নেয় না। অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে আমাদের।’

ছোট বোন আনুচিং এখন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছেন। বড় বোনের পাঠানো সামান্য টাকা আর নিজের জমানো সঞ্চয়ে কোনোমতে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফোনে কথা বলতে বলতে বললেন, ‘আমরা দিনে এনে দিনে খাই এমন পরিবার। এখন চাকরি পেতেও টাকা লাগে। আমাদের সেই সামর্থ্য নেই।’

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: