খাগড়াছড়িতে জ্বালানি তেলের সংকট এখনও কাটেনি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত পরিমাণ তেল বিক্রির কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারপরও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শহরের মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনের লাইন ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বাস টার্মিনাল ছাড়িয়ে শান্তিনগর সড়ক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা হ্ললাপ্রু চৌধুরী বলেন, তেল সংকট ও বিক্রির সময় নির্ধারণের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। গণপরিবহন ও ভাড়ায় চালিত যানবাহনের চালকদের আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আরেকজন ভুক্তভোগী ঋষি বড়ুয়া বলেন, শহরের সব পেট্রোল পাম্প একসঙ্গে তেল বিক্রি করলে এত দীর্ঘ লাইন হতো না। নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার পর তেল পাওয়া যায় না। শেষের দিকে অনেকেই তেল না পেয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার নীতি ভূষণ চাকমা বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত পরিমাণ তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার পাম্পে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন আসে। এর মধ্যে পাঁচশো লিটার জরুরি সেবার জন্য রাতেই বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি তেল শুক্রবার বিক্রি করা হবে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোগান্তি কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শহরের বাইরে উপজেলাগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। প্রভাবশালীদের কারণে সাধারণ মানুষ তেল পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কোথাও কোথাও সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। কৃষি কার্ড না থাকলে তেল মিলছে না, অথচ সব কৃষকের কাছে এই কার্ড নেই।


