বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের তালিকায় নাম আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় উঠেছে বান্দরবানের অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাকে নিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হিসেবে কাজ করা এই আইনজীবী এখন বিএনপির মনোনয়নে সংসদে যাচ্ছেন — এই প্রশ্নেই সরগরম নেট দুনিয়া। তবে মাধবী মারমার দাবি, গল্পটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, আসলে ততটা নয়।
মাধবী মারমা বলছেন, এপিপি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তটি আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়াল সেপারেশনের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন বারের সভাপতি ছিলেন বিএনপি ঘরানার ড. মহিউদ্দিন। তাঁর সুপারিশেই আমি এপিপি হয়েছিলাম। গেজেট হতে হতে আওয়ামী লীগ সরকার চলে আসে। এটি নিয়ে অনেকে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন।’
বিএনপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন নয় বলেও জানালেন মাধবী। পারিবারিকভাবেই দলটির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক, বিশেষ করে বান্দরবানের রাজপরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্র ধরে এই রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এসেছে। ‘আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট সময় বলে দেওয়া যাবে না, এটি পারিবারিকভাবে পাওয়া’ — বলেন তিনি।
পেশাগত জীবনে মাধবী মারমা বান্দরবানে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। জেলা বারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে অর্থ সম্পাদক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে কারাগার পরিদর্শক, লিগ্যাল এইড কমিটি, আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেছেন তিনি।
সংসদে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চান মাধবী। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার, বঞ্চনা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে।’ পাশাপাশি পাহাড়ের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি দূর করা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।


