পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৫টি সম্পূর্ণরূপে এবং ৩টি আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া আরও ৪টি ধারা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চলমান আদিবাসী- সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, আদিবাসী-সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নানা বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে করা পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকারের নেওয়া কার্যক্রম রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সমঅধিকার দেওয়া হয়েছে। শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর ধারাগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বর্তমান সরকার সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক একজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করেছে জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়গুলোর অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি বর্ধিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গ্রামীণ অবকাঠামো, ডিজিটাল সংযোগ ও জীবিকার বৈচিত্র্যায়ণের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের নৃ-তাত্ত্বিক সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়ে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। নৃ-তাত্ত্বিক সম্প্রদায়ভুক্ত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে সরকার বৃত্তি, বহুভাষিক ও ই-লার্নিং ব্যবস্থা, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং মোবাইল মেডিকেল টিম ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সচিব তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকবিলা-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পার্বত্য জেলাগুলোতে ২০ লাখ বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী আদিবাসী- সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমাসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য ও সমতল অঞ্চলের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আওতায় আদিবাসী-সংক্রান্ত স্থায়ী ফোরাম বিশ্বব্যাপী আদিবাসীদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করে থাকে। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
একই দিনে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলন। এ সম্মেলনে সাধারণ বিতর্কে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জোরালো পদক্ষেপ দাবি করেছে বাংলাদেশ।
পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে জানানো হয়, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বৈশ্বিক অঙ্গীকার নবায়ন এবং সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আট দশক অতিক্রান্ত হলেও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অব্যাহত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে বলেও সতর্ক করেন রাষ্ট্রদূত।


