রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখন আর শুধু শরণার্থী সংকট নয় — এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই সতর্কবার্তা দিল ডা. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন একেএম গোলাম কিবরিয়া বলেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার, অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা মিলিয়ে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা সেটিকে ‘জৈবিক টাইম বোমা’ বলছেন। তাঁর কথায়, “ভাইরাস ও রোগের বিস্তার কোনো সীমান্ত মানে না। তাই শরণার্থী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরাসরি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
গত ৫ থেকে ৭ মে কুতুপালং ক্যাম্পে ফাউন্ডেশনের তিন দিনের জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি রোগীকে চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যাই বলছে, সংকট কতটা গভীর।
স্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি ক্যাম্পে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ফাউন্ডেশন। শিক্ষার অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এবং কাঠামোগত সুযোগের অনুপস্থিতি তরুণদের অপরাধচক্র, মাদকাসক্তি, মানবপাচার, সাইবার অপরাধ এমনকি উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চারটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফাউন্ডেশন — ক্যাম্পে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, তরুণদের জন্য টেকসই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা, আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের নেতারা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে রোহিঙ্গা মানবিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরিচালক ডা. সুলতানা খানম এবং এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের একাডেমিক ডিরেক্টর রণজিত দস্তিদার


