খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের বড়বিল এলাকায় নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে রাম্রা মারমা (৪১) নামে ওই নারীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাম্রা মারমা তিন ছেলে ও এক মেয়ের মা। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকের কাজ করে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি।
নিহতের মেয়ে, কলেজছাত্রী আনুমা মারমা জানান, সোমবার (৯ মার্চ) রাতে মা–মেয়ে একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে আনুমা দেখেন, তার মা ঘরে নেই। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রান্নাঘরের বিছানায় কম্বল মুড়ি দেওয়া একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
কম্বল সরাতেই সামনে আসে ভয়াবহ দৃশ্য—মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তার মা। আতঙ্কে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, বড় দুই ছেলে কাজের সূত্রে অন্যত্র থাকেন। আরেক ছেলে ঘটনার রাতে পাশের একটি বৌদ্ধ বিহারে রাত্রিযাপন করছিল। বাড়িতে ওই সময় মূলত মা ও মেয়েই ছিলেন।
মানিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মো. আল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রান্নাঘরের বিছানায় কম্বল ঢাকা অবস্থায় এক মায়ের নিথর দেহ—মানিকছড়ির বড়বিল গ্রামে মঙ্গলবার সকালের সেই দৃশ্য এখনও আতঙ্ক আর প্রশ্ন ছড়িয়ে দিয়েছে এলাকাজুড়ে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


