Home রাঙামাটি দুর্গম জুরাছড়িতে ঈদের আগেই নতুন ঠিকানা, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ঘর পাচ্ছে ২৫ পরিবার

দুর্গম জুরাছড়িতে ঈদের আগেই নতুন ঠিকানা, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ঘর পাচ্ছে ২৫ পরিবার

পাহাড়ি পথ, দুর্গম জনপদ আর সীমিত জীবিকার মধ্যে দিন কাটে রাঙামাটির জুরাছড়ির অনেক পরিবারের। ঝড়-বৃষ্টি এলে টিনের চাল ফুটো হয়ে ঘরে পড়ে পানি, ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ে ঠান্ডা হাওয়া

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮

Share

পাহাড়ি পথ, দুর্গম জনপদ আর সীমিত জীবিকার মধ্যে দিন কাটে রাঙামাটির জুরাছড়ির অনেক পরিবারের। ঝড়-বৃষ্টি এলে টিনের চাল ফুটো হয়ে ঘরে পড়ে পানি, ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ে ঠান্ডা হাওয়া। এমন বাস্তবতায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে নতুন আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখছে ২৫টি অসহায় পরিবার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এবং জুরাছড়ি জোনের (২ বীর) উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ঘর। প্রকল্পের আওতায় ২০টি অসহায় পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ঘর তৈরি করা হচ্ছে এবং আরও ৫টি পরিবারের পুরোনো জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করে দেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন জুরাছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান। এ সময় তিনি ঘর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পবিত্র মাহে রমজানের মানবিক চেতনা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, সেনাসদস্যরা আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে ঘর নির্মাণের কাজ করছেন। ঘরগুলো হস্তান্তরের পর এসব পরিবার নতুন করে স্বস্তির জীবন শুরু করতে পারবে এবং তাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভৌগোলিক কারণে জুরাছড়ি উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত। সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থসামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখানকার অনেক পরিবার এখনও মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নানা মানবিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে সেনাবাহিনীর জুরাছড়ি জোন। স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও ভরসা তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ হলে আগামী ১৬ মার্চ সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে। ঈদের আগেই মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ—এ যেন জুরাছড়ির বহু পরিবারের জন্য এক নতুন আশার গল্প।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: