রঙ, স্বাদ ও সুগন্ধে অনন্য—এভাবেই বর্ণনা করা হয় রাঙামাটির পাহাড়ি হলুদের। শুধু রান্নায় স্বাদ বা রঙের জন্য নয়, দেশের বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পাহাড়ের খাস মাটি ও আবহাওয়া মসলা উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা এখন হলুদের বাণিজ্যকে লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
রাঙামাটি জেলার সাফছড়ি ইউনিয়নের ‘কুতুকছড়ি হাট’ হল এলাকার সবচেয়ে বড় হলুদের বাজার। এখান থেকে পাইকাররা প্রতিদিন পাহাড়ি হলুদ সংগ্রহ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করেন। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি শুকনো হলুদের পাইকারী দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, আর প্রতিমণ হলুদ মানভেদে ৯০০০–১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
চাষি বিক্রম চাকমা বলেন, “গত বছরের মতো এ মৌসুমেও হলুদের ভালো দাম পাচ্ছি। পাহাড়ি হলুদের চাহিদা সমতলে ব্যাপক। তাই আমরা বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়াচ্ছি।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে দুই হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন উৎপাদন হয়েছে। ফলে বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া মসলাজাতীয় ফসলের জন্য উপযুক্ত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন আরও বাড়বে এবং মাটি ক্ষয়ও কমবে। পাহাড়ি হলুদের বাণিজ্য দেশের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।”
চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে, অল্প খরচ, কম শ্রম ও বেশি লাভের কারণে হলুদ এখন রাঙামাটির একটি প্রধান অর্থকরী ফসল। পাহাড়ি হলুদের উজ্জ্বল রঙ, গন্ধ ও স্বাদ শুধু রান্নার সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতি এনেছে।


