Home কক্সবাজার ঈদের ছুটিতে সৈকতের নতুন রূপ দেখবেন পর্যটকেরা

ঈদের ছুটিতে সৈকতের নতুন রূপ দেখবেন পর্যটকেরা

কক্সবাজার সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান, স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সৈকতের অনেক এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৫১

Share

কক্সবাজার সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান, স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সৈকতের অনেক এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে। ভাসমান দোকান সরে যাওয়ায় সড়ক থেকে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আছড়ে পড়া নীল ঢেউ। সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে এবার মাঝপথে অভিযান বন্ধের সুযোগ নেই। ঈদের ছুটিতে তাই পর্যটকেরা সৈকতের নতুন রূপ দেখতে পাবেন বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সুগন্ধা পয়েন্টের মসজিদ থেকে দক্ষিণ দিকে ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার এলাকায় সৈকতের মুখেই ছিল অবৈধ দোকানপাট। এ কারণে সৈকতটি ঘিঞ্জি হয়ে পড়েছিল। গতকাল রোববার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতের ওই এলাকা খোলামেলা চেহারা পেয়েছে। নেই কোনো দোকানপাট।

কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, প্রতিবছর কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন আসেন ৬০-৭০ লাখ পর্যটক। বেশির ভাগ পর্যটক একবারের জন্য হলেও সৈকতে আসেন। পর্যটকেরা সৈকতে নামার সময় বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের বস্তি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে নানা অপরাধও ঘটে। ঝুপড়ি মুক্ত হওয়ায় এখন সৈকতের চেহারা পাল্টে গেছে। এতে পর্যটকেরা নতুন রূপ দেখতে পাবেন কক্সবাজারের। পাশাপাশি সমুদ্রের দূষণও কমবে।

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে স্থাপিত অন্তত ৫০০ দোকানসহ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা তিনটার আগে দখলদারেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেন। এর আগের দুই দিনে উচ্ছেদ করা হয় ১৩০টি স্থাপনা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে ঝুপড়ি দোকান ও নানা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অনেক বছরের পুরোনো সমস্যা। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দখলদারদের তৎপরতা বাড়ে, নতুন নতুন দোকান নির্মিত হয়। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চলে। তা একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে বছরের পর বছর সৈকতে কোটি টাকার বাণিজ্য চললেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকে যায়।

অবৈধ স্থাপনাসহ মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন দখলদার ব্যবসায়ীদের গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনা ছিল এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতে বালিয়াড়িতে স্থাপিত দোকানপাটসহ সব স্থাপনা উচ্ছেদ করার। নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে জেলা প্রশাসন অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ৩৩টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সুগন্ধা সৈকত ও আশপাশের জায়গা থেকে আরও ৯৭টিসহ মোট ১৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তৃতীয় দিন শনিবার দুপুরে সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী। এ সময় কয়েক শ নারী-পুরুষ উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। শুরুতেই মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায় ব্যবসায়ী ও প্রশাসন। এ সময় দোকানপাটের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বিকেলে দখলদারদের অনুরোধে বালিয়াড়ির সব স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার শর্তে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের লোকজন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য সুগন্ধ সৈকতে গেলে দখলদার ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে কার্যক্রম ঠেকানোর চেষ্টা চালান এবং বালিয়াড়িতে স্থাপিত স্থাপনা রেখে দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের আরও কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং স্থাপনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করা হয়। এরপর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। দখলদার ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে দোকানপাটসহ অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে রাজি হন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বালিয়াড়ি থেকে পাঁচ শতাধিক দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যটন শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজু বিন আফগান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচালিত তিন দিনের অভিযানে মোট ৬৩০টি দোকানপাটসহ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বালিয়াড়িতে আবার স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: