Home বান্দরবান বান্দরবানে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই উন্নয়ন কাজ

বান্দরবানে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই উন্নয়ন কাজ

পিচঢালা নতুন সড়ক—দেখলেই মনে হওয়ার কথা স্বস্তির, মসৃণ যাত্রার। কিন্তু সেই সড়কের মাঝখানেই যদি দাঁড়িয়ে থাকে বিদ্যুতের খুঁটি? বান্দরবানের রেইছা-গোয়ালিয়াখোলা সড়কে এখন ঠিক এমনই এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা চোখে পড়ছে।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০

Share

সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে কার্পেটিং

পিচঢালা নতুন সড়ক—দেখলেই মনে হওয়ার কথা স্বস্তির, মসৃণ যাত্রার। কিন্তু সেই সড়কের মাঝখানেই যদি দাঁড়িয়ে থাকে বিদ্যুতের খুঁটি? বান্দরবানের রেইছা-গোয়ালিয়াখোলা সড়কে এখন ঠিক এমনই এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা চোখে পড়ছে। উন্নয়নের কাজ চলছে জোরকদমে, অথচ সেই কাজই যেন ডেকে আনছে নতুন বিপদ। খুঁটি না সরিয়েই চলছে কার্পেটিং—ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বা গাড়ি চালাতে গেলেই বুক ধড়ফড় করছে অনেকের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হলেও বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সড়কের একেবারে মাঝখানেই দাঁড়িয়ে থাকা এসব খুঁটি এখন রীতিমতো বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে—অন্ধকারে খুঁটি চোখে না পড়লে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বান্দরবান এলজিইডির অর্থায়নে তিন প্যাকেজে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউটিমং-মিল্টন ট্রেডার্স জেভি ও এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। তিনটি প্যাকেজের বরাদ্দে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে সদর ইউনিয়নের রেইছা থেকে গোয়ালিয়া খোলা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ। চলতি বছরের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথাও রয়েছে।

গোয়ালিয়াখোলা এলাকার বাসিন্দা টমটম চালক সুজন মার্মা বলেন, সড়কের ওপরে বিদ্যুতের খুঁটি এটা আমাদের জন্য অনেক বিপজ্জনক। রাতবিরেতে আমরা এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে থাকি। সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। রাস্তার ওপর খুঁটি রেখে সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে এটা খুবই দুঃখজনক এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। আমরা চাই দ্রুত সময়ে রাস্তার ওপর থেকে এই বিদ্যুতের খুঁটি সরানো হোক।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা নুমং মার্মা বলেন, রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে সড়ক নির্মাণ কাজে। এতে করে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি এক বছরও টেকসই হবে না।

বান্দরবান সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মার্মা বলেন, আমরা অনেকবার বলেছি বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে কাজ করার জন্য। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি। এছাড়াও শুরু থেকে সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদাররা। সামনের বর্ষায় নতুন নির্মিত সড়কটি ভেঙে যেতে পারে।

সড়ক ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসাইন। তিনি বলেন, গত দুই-একদিন আগে এলজিইডি থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল এ বিষয়ে। কিন্তু ঈদের কারণে অনেকে ছুটিতে গেছে, পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি উত্তোলনের জন্য ক্রেন প্রয়োজন, সেটিও আনতে হয় চট্টগ্রাম থেকে। তাই ঈদের পর যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার ওপর থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেয়া হবে।

রাস্তার ওপর খুঁটি রেখে কার্পেটিং করার বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: