Home বান্দরবান জুম ছেড়ে কাজুবাদামে ঝুঁকছেন পাহাড়ের চাষিরা, বাড়ছে আয়-স্বপ্ন দুটোই

জুম ছেড়ে কাজুবাদামে ঝুঁকছেন পাহাড়ের চাষিরা, বাড়ছে আয়-স্বপ্ন দুটোই

থানচির বলিপাড়া ইউনিয়নের দিনতে পাড়ার রেইনিং ম্রো বছর কয়েক আগেও পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে জুম চাষেই দিন কাটাতেন। জুমের ফলন কমতে থাকায় সিদ্ধান্ত নেন পথ বদলাবেন।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১১:১১

Share

থানচির বলিপাড়া ইউনিয়নের দিনতে পাড়ার রেইনিং ম্রো বছর কয়েক আগেও পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে জুম চাষেই দিন পার করতেন। জুমের ফলন কমতে থাকায় সিদ্ধান্ত নেন পথ বদলাবেন। আজ তাঁর ২৫ একর জমিতে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দুই হাজার কাজুবাদাম গাছ। গত বছর ২৭ মণ বিক্রি করে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ বছর ফলন হবে ৫৪ মণ — বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা ছুঁই ছুঁই।

একই ইউনিয়নের বাজেরুং ত্রিপুরাও জুম ছেড়ে কাজুতে এসেছেন। গত বছর ৮০০ গাছ থেকে ২০ মণ বিক্রি করে আয় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এবার আশা চারগুণ — ৪০ মণ ফলনের। থাংনাং পাড়ার লংছাই খুমীর ৮০০ গাছ থেকে গত বছর আয় এসেছে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। তিনি জানান, বর্তমানে খোসাসহ প্রতি মণ কাজুবাদাম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায়।

যে ফল একসময় পাহাড়ের বাগানে পড়েই পচে যেত, সেই কাজুবাদামই এখন পাহাড়ের অন্যতম লাভজনক ফসল হয়ে উঠছে। পাহাড়ে গায়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-হলুদ রঙের পাকা কাজুবাদাম। গাছ থেকে পাড়া, মাটি থেকে কুড়ানো, রোদে শুকানো — এই মুহূর্তে বান্দরবানের চাষিদের দিন কাটছে ব্যস্ততায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত তিন বছরে বান্দরবানে কাজুবাদামের আবাদ ও উৎপাদন দুটোই ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টনে। আবাদি জমিও বেড়েছে ২ হাজার ৫৫৬ হেক্টর থেকে ২ হাজার ৭১১ হেক্টরে।

তবে সাফল্যের এই ছবিতে একটি কালো দাগও আছে। বান্দরবান কিষাণঘরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেকুল ইসলাম জানান, ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ না পাওয়ায় অনেক চাষি বাধ্য হচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে আগাম কম দামে ফসল বেচে দিতে। তিনি বলেন, কৃষকদের সহজ শর্তে কৃষিঋণ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গাছ লাগানোর তিন থেকে চার বছর পর ফলন আসে বলে এটি সময়সাপেক্ষ। তবে একবার বাগান গড়ে উঠলে লাভ দীর্ঘমেয়াদি। তাঁর আশা, আগামী দিনে এ অঞ্চলে কাজুবাদামের আবাদ আরও বাড়বে।

সর্বশেষ :