পাহাড়ের কোলে কাপ্তাই হ্রদ। সেই হ্রদের বুক চিরে প্রতিদিন ছুটে চলে লঞ্চ, স্পিডবোট, পণ্যবাহী নৌকা। রাঙ্গামাটি কিংবা খাগড়াছড়ির যে প্রত্যন্ত উপজেলায় সড়কপথ পৌঁছায়নি, সেখানকার মানুষের কাছে এই জলপথই একমাত্র ভরসা। চাল-ডাল-তেল পৌঁছায় এই পথে, হাসপাতালে যেতে হলেও নামতে হয় নৌকায়। কিন্তু সেই জীবনরেখায় এখন টান পড়েছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ, মজুত ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। হাতে সময় আর মাত্র দু’টি দিন।
রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) হিসাব বলছে, শুধু রাঙ্গামাটি থেকেই ১৯টি রুটে প্রতিদিন চলে যাত্রীবাহী লঞ্চ। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে ছাড়ে অন্তত ৪০টি যাত্রীবাহী ও ৭০-৮০টি পণ্যবাহী লঞ্চ, শতাধিক স্পিডবোট। এখন জুম চাষের মরসুম, তার উপর ঈদফেরত যাত্রীর চাপ। অথচ ঠিক এই সময়েই ঈদের পর থেকে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত শূন্য।
মজুত ফুরিয়ে আসছে, দু’দিন পরেই বিচ্ছিন্ন?
লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানালেন, কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চালাতে প্রতিদিন দরকার দেড় হাজার লিটার ডিজেল। কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ ছিল টুকটাক, ঈদের পর সেটুকুও বন্ধ।
তাঁর কথায়, ‘মজুত এসে ঠেকেছে দু’দিনে। এর মধ্যে তেল না এলে লঞ্চ বন্ধ করা ছাড়া গতি নেই।’
বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক নয়ন শীলও উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, হ্রদে চলাচল করে প্রায় হাজারখানেক নৌযান। সবই এখন অনিশ্চয়তার মুখে। পদ্মা অয়েল কোম্পানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাড়া মেলেনি।
সড়কে তেল যায়, নৌপথে ছাঁটাই!
নৌযান মালিকদের ক্ষোভ একটাই জায়গায়। সড়কপথের ফিলিং স্টেশন ও এজেন্টরা ঠিকঠাক তেল পাচ্ছেন, কিন্তু নৌযানের বরাদ্দ ছাঁটাই হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকে এখন সড়ককেন্দ্রিক এজেন্টদের দরজায় ধরনা দিচ্ছেন, গুনছেন বাড়তি দাম।
পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নামতে হয়েছে প্রশাসনকেও। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী প্রত্যয়নপত্র দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন।
জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনুকূল এন্টারপ্রাইজ চিঠি পাঠিয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএতে।
বিআইডব্লিউটিএও পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জরুরি চিঠি দিয়েছে।
পদ্মা অয়েলের দাবি, সব ঠিকঠাক
পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান অবশ্য বললেন অন্য কথা। তাঁর দাবি, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। রেশনিং করে হলেও সরবরাহ চলছে। তাঁর কথায়, ‘কাপ্তাই হ্রদের ব্যাপারে কেউ সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নিয়ম মেনে যোগাযোগ করলে তেল পেতে অসুবিধা নেই।’
কিন্তু নৌযান মালিকেরা এই যুক্তি মানতে রাজি নন। তাঁদের বক্তব্য, চিঠির স্তূপ জমে গেছে, সাড়া নেই।


