Home বান্দরবান বান্দরবানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: ৪৬ পর্যটককে ফেলে উধাও ট্যুর অপারেটর, সঙ্গে টাকা-ফোন!

বান্দরবানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: ৪৬ পর্যটককে ফেলে উধাও ট্যুর অপারেটর, সঙ্গে টাকা-ফোন!

বান্দরবান-এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে গিয়ে এক দুঃস্বপ্নের মুখে পড়লেন ৪৬ জন পর্যটক। অভিযোগ, ‘ভ্রমণপ্রিয় পর্যটক’ ও ‘ঘুরি বাংলাদেশ’ নামের দুটি ট্রাভেল গ্রুপ তাদের মাঝপথে ফেলে পালিয়েছে—তাও আবার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে!

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৩১

Share

বান্দরবান-এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে গিয়ে এক দুঃস্বপ্নের মুখে পড়লেন ৪৬ জন পর্যটক। অভিযোগ, ‘ভ্রমণপ্রিয় পর্যটক’ ও ‘ঘুরি বাংলাদেশ’ নামের দুটি ট্রাভেল গ্রুপ তাদের মাঝপথে ফেলে পালিয়েছে—তাও আবার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে!

ঢাকা থেকে যাত্রা করে দলটি গিয়েছিল থানচি উপজেলা-র প্রত্যন্ত রেমাক্রি এলাকায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে নৌকায় করে তিন্দু যাওয়ার কথা থাকলেও সেই ব্যবস্থা না করেই ট্যুর অপারেটররা উধাও হয়ে যায়।

এক পর্যটকের ভাষায়, শনিবার সকালে আমাদের ঢাকা পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু আমাদের ট্যুর গ্রুপ গতকাল অর্ধেক পর্যটক নিয়ে রওনা দেয়। আমাদের রেমাক্রী থেকে তিন্দু পর্যন্ত নৌকায় নিয়ে আসার কথা ছিল, কিন্তু তারা নৌকার ব্যবস্থা না করেই আমাদের ফেলে চলে আসে। এরপর আমাদের ৫ ঘণ্টার পথ হেঁটে আসতে হয়। পাহাড়ি এলাকায় ছিনতাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এমন কথা বলে আমাদের কাছ থেকে মোবাইল মানিব্যাগসহ সবকিছু নিয়ে তারা চলে যায়।

পর্যটকদের অভিযোগ—নিরাপত্তার অজুহাতে পর্যটকদের কাছ থেকে আগেই ফোন, মানিব্যাগ ও টাকা নিয়ে নেয় ট্যুর গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। তারপরই তাদের ফেলে রেখে চলে যায় তারা।

বিপদে পড়ে স্থানীয় মানুষ ও গাইডদের সহায়তায় পর্যটকরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছান। পরে সেখান থেকে আলীকদম উপজেলা-এর পরিবহনের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে আসতে সক্ষম হন।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত গাইড জৌতুরাম ত্রিপুরা জানান, চারজন হোস্ট তাকে বুকিং করেছিলেন। কিন্তু রেমাক্রিতে পৌঁছানোর পর তাকে এবং ৪৬ জন পর্যটককে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।

পরিস্থিতি জানাজানি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। আলীকদমের ইউএনও মো. মনজুর আলম জানান, আমরা সঙ্গে সঙ্গে খাবার ও ঢাকায় ফেরার গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের অগ্রাধিকার।

এদিকে ভুক্তভোগী পর্যটক মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, জনপ্রতি ৬,৯৯৯ টাকায় তিন দিন চার রাতের প্যাকেজে এই ভ্রমণ আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেবা তো দূরের কথা, মৌলিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনার পর আলীকদম থানা-য় দুই ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি—তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: