মাছ ধরে তীরে উঠছিল পনেরো বছরের আব্দুল হাকিম। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়া কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি আর নেই। নাফ নদীর তীরে পুঁতে রাখা মাইন কেড়ে নিল তার একটি পা।
এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। মাত্র তিন দিন আগে, একই উপজেলার একই ইউনিয়নে একইভাবে পা হারিয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। পরপর দুটি বিস্ফোরণ এখন একটাই প্রশ্ন সামনে এনে দিচ্ছে — উখিয়ার সীমান্তজুড়ে কি ছড়িয়ে আছে মৃত্যুফাঁদ?
৪৮ ঘণ্টায় দুই বিস্ফোরণ
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় বিস্ফোরণে আহত হয় আব্দুল হাকিম (১৫)। সে উখিয়ার ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে।
এর মাত্র তিন দিন আগে, গত ২৬ মার্চ একই ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা হারান মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (২৫)। তিনি উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-৫ ব্লকের বাসিন্দা চাঁন মিয়ার ছেলে।
যা জানাল বিজিবি
বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরে তীরে উঠার সময় বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিমের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে।
কারা পুঁতছে এই মাইন?
বিজিবি সূত্র জানাচ্ছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি নাফ নদীর শূন্যরেখা বরাবর এই স্থলমাইনগুলো পুঁতে রেখেছে। মূলত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষের চলাচল ঠেকাতে এই কৌশল নেওয়া হলেও এর শিকার হচ্ছেন নিরীহ রোহিঙ্গারা — যাদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে নদীতে মাছ ধরতে যান।
উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তজুড়ে
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় পরপর দুটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। নাফ নদীর তীর এখন কার্যত মৃত্যুর মুখ হয়ে উঠছে। অথচ এই নদীই বহু রোহিঙ্গা পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই মাইন সমস্যার আন্তর্জাতিক সমাধান দাবি করে আসছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি তো হয়ইনি, বরং বিপদ বেড়েছে।


