Home চট্টগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি ১৮ শিশুর ১৭ জনই নিউমোনিয়ায়, হামের আতঙ্কে না ভুগতে বললেন মেয়র

হাসপাতালে ভর্তি ১৮ শিশুর ১৭ জনই নিউমোনিয়ায়, হামের আতঙ্কে না ভুগতে বললেন মেয়র

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। মাত্র একজন হাম এবং একজন রুবেলায় শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও চট্টগ্রামে এখনও পরিস্থিতি সেভাবে ছড়ায়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:১৯

Share

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। মাত্র একজন হাম এবং একজন রুবেলায় শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও চট্টগ্রামে এখনও পরিস্থিতি সেভাবে ছড়ায়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের মিজেলস ব্লক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

মেয়র বলেন, জ্বর বা গায়ে র‌্যাশ মানেই হাম নয়। অধিকাংশ শিশুই শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

মৃত্যু হামে নয়, নিউমোনিয়ায়
সম্প্রতি পাঁচজনের — শিশু ও মা মিলিয়ে — মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। মেয়র স্পষ্ট করে জানান, এই মৃত্যুগুলো মূলত সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হয়েছে, হামের কারণে নয়। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ও জানিয়েছে, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত দপ্তরে নথিভুক্ত হয়নি।

হাসপাতালে পরিস্থিতি কেমন
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। তবে এসব রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা এখনও প্রক্রিয়াধীন।

সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, “জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বিশেষ কর্নারও খোলা হয়েছে।” গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য ২০ বেডের নিউনেটাল আইসিইউ ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সুবিধাও রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয় — প্রথম ডোজ ৯ মাস এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা — যাদের এখনও টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি — তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

টিকার ঘাটতি নেই, সময়মতো দেওয়ার আহ্বান
চসিক নিয়মিত ইপিআই টিকার পাশাপাশি ১০ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি ভ্যাকসিন এবং ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ১০ লাখ শিশুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন দিয়েছে। মেয়র জানান, চসিকের কাছে পর্যাপ্ত টিকার মজুদ রয়েছে, কোনো ঘাটতি নেই।

একজন চিকিৎসক হিসেবে মেয়র মায়েদের উদ্দেশে বলেন, “গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে শিশুর জন্মের পর সকল রুটিন টিকা সময়মতো দিন। সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করলে এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: