পাহাড়ের গহিনে নিভৃতে গড়ে উঠেছে হরিণের বিচরণভূমি। মানুষের পদচারণামুক্ত বাংলাদেশ মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়ার (বিএমটিএ) পাহাড়গুলোতে বনাঞ্চল জন্ম নিয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। চালিঘাট পাহাড়সহ জেলার বিভিন্ন বনে এখন হরিণের অবাধ বিচরণ। কিন্তু সেই নিরাপদ আশ্রয়েও থামছে না শিকারিদের ফাঁদ।
দীর্ঘদিন ধরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি শিকারি চক্র এই বনে গোপন জালের ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে আসছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। শেষ পর্যন্ত প্রমাণসহ হাতেনাতে ধরা পড়লেন চারজন—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের বাবা ও ছেলে।
মঙ্গলবার বান্দরবান বন বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নে দুটি শিকারি পরিবারের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে রান্না করা হরিণের মাংস পাওয়া যায়। আটক করা হয় দিল মোহাম্মদ (৪৪) ও তাঁর ছেলে আবু তাহের (১৮), মোহাম্মদ জোবায়ের (২৭) এবং সাইফুল ইসলামকে (১৮)। পরে আদালত চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিকারি চক্রের তৎপরতার বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু প্রমাণের অভাবে কাউকে আটক করা যাচ্ছিল না। এবার প্রমাণসহ চারজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিএমটিএ এলাকার পাহাড়ি বনে নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সচেতন করার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


