ফেব্রুয়ারি শেষ না হতেই বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট। টিউবওয়েল ও রিংওয়েলে পানি কমে যাওয়ায় সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের আমতলি মারমা পাড়ার ১৬০ পরিবার এখন খালের পাশে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়ভাবে এই গর্তকে বলা হয় ‘কুয়া’। সেই কুয়ার পানিই এখন তাঁদের পানীয় জলের একমাত্র ভরসা।
পাড়ায় ১৬০ পরিবারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল ও দুটি রিংওয়েল। শুষ্ক মৌসুমে সেগুলো থেকে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। এক কলসি পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। বাসিন্দা মায়ইচিং মারমা বলেন, ‘টিউবওয়েলে এখনই পানি কম। কয়েক দিন পর আরও কমবে, তারপর একদম বন্ধ হয়ে যাবে। কুয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষ থেকে পানিসংকট শুরু হয়। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সংকট চরম আকার নেয়। বর্ষা না আসা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ চলতেই থাকে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার দিলীপ চৌধুরী বলেন, কুয়ার পানি সরাসরি পান করা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। ছাঁকনি দিয়ে সংগ্রহ করে ফুটিয়ে পান করতে হবে। তিনি জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে সুয়ালক ইউনিয়নকে ‘আনসাকসেসফুল জোন’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও এই এলাকায় পানিসংকট দূর করা যাচ্ছে না। টিউবওয়েলের কাজ এখানে হয় না, রিংওয়েলই একমাত্র বিকল্প। এলাকাবাসীর আবেদন বিবেচনাধীন আছে বলেও তিনি জানান।
সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, আমতলি মারমা পাড়ায় আরও দুটি রিংওয়েল স্থাপনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এটি হয়ে গেলে পানিসংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


