Home বান্দরবান কমিটি বিরোধে এবার সাংগ্রাই হবে তো? সমঝোতা নেই, বৈঠক নেই, সময় ফুরোচ্ছে, বিরোধ মিটছে না

কমিটি বিরোধে এবার সাংগ্রাই হবে তো? সমঝোতা নেই, বৈঠক নেই, সময় ফুরোচ্ছে, বিরোধ মিটছে না

প্রতিবছর এই সময়টায় বান্দরবানে থাকে উৎসবের আমেজ। রাজার মাঠে জলকেলিতে মেতে ওঠেন মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু এবার উৎসবের আগেই ছায়া ফেলেছে গভীর বিরোধ। দুটি কমিটি, একটি মাঠ — আর মাত্র সাত দিন বাকি, তবু সমাধানের কোনো আলো নেই।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২২

Share

প্রতিবছর এই সময়টায় বান্দরবানে থাকে উৎসবের আমেজ। রাজার মাঠে জলকেলিতে মেতে ওঠেন মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু এবার উৎসবের আগেই ছায়া ফেলেছে গভীর বিরোধ। দুটি কমিটি, একটি মাঠ — আর মাত্র সাত দিন বাকি, তবু সমাধানের কোনো আলো নেই।

পিঠা তৈরি, বয়স্ক পূজা, বুদ্ধমূর্তি স্নান আর জলকেলির আনন্দে মারমা সম্প্রদায়ের তিন দিনের সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজনগুলোর একটি। বান্দরবানের রাজার মাঠে প্রতিবছর জাঁকজমকভাবে এই উৎসব পালিত হয়। কিন্তু এবার সেই চেনা আনন্দের জায়গায় জমেছে অন্য উত্তেজনা — কমিটি বিরোধ এখন এতটাই চরমে যে উৎসব আদৌ হবে কি না, সেই প্রশ্নই ঘুরছে সবার মনে।

গত ১৮ মার্চ ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’ রাজার মাঠে সাংগ্রাই আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। ঠিক পরের দিন ১৯ মার্চ ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ নামে আরেকটি পক্ষ একই স্থানে একই সময়ে অনুষ্ঠানের পাল্টা ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

মাঠ ব্যবহারের অনুমতির জন্য দুই পক্ষই বোমাং সার্কেল চিফের দ্বারস্থ হয়। সার্কেল চিফ ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’কে অনুমতি দিলেও তা মানতে নারাজ ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’।

৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকালে উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চনু মং মারমা মাঠে গিয়ে সাজসজ্জার প্রস্তুতি শুরু করেন। সন্ধ্যায় উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চথুই ফ্রু একই মাঠে যান, সঙ্গে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীও।

খবর পেয়ে পরিষদের নেতারাও ছুটে আসেন। পতাকা উপড়ে ফেলা হয়, পরিবেশ হয়ে ওঠে থমথমে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

চনু মং মারমা বলেন, ‘আমাদের পতাকা তারা তুলে ফেলেছিল। বাধা দিইনি — দিলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়ে যেত।’

তিনি জানান, তৃতীয় একটি পক্ষের সমঝোতা প্রস্তাবে তাঁরা রাজি হয়েছেন, কিন্তু অন্য পক্ষ এখনো বৈঠকে বসতে রাজি নয়।

অন্যদিকে চথুই ফ্রু দাবি করছেন, মাঠ ব্যবহারের অনুমতি তাঁদের কাছেই আছে। ৮ এপ্রিল থেকে তাঁদের অনুষ্ঠান শুরু হবে, সব প্রস্তুতি চলছে।

উৎসব উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অংচ মং মারমা বলছেন, ‘সমাধান না হলে এটা মারমা সমাজে স্থায়ী বিভেদ তৈরি করবে।’ একটি পক্ষ সমঝোতায় সাড়া দিলেও অন্য পক্ষ না দেওয়ায় বৈঠক এখনো হয়নি।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: