Home বান্দরবান তিন দিন ধরে মৃত শাবকের পাশ ছাড়ছে না মা হাতি, চোখে জল বনকর্মীদেরও

তিন দিন ধরে মৃত শাবকের পাশ ছাড়ছে না মা হাতি, চোখে জল বনকর্মীদেরও

ঘোলা জলের একটা অগভীর ডোবা। তার মধ্যে পড়ে আছে একটি হাতির শাবকের নিথর দেহ। পাশেই অর্ধেক শরীর জলে ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে মা হাতি। একটু দূরে ডোবার কিনারে নিশ্চল দাঁড়িয়ে বাবা হাতিও।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭

Share

ঘোলা জলের একটা অগভীর ডোবা। তার মধ্যে পড়ে আছে একটি হাতির শাবকের নিথর দেহ। পাশেই অর্ধেক শরীর জলে ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে মা হাতি। একটু দূরে ডোবার কিনারে নিশ্চল দাঁড়িয়ে বাবা হাতিও। তিন দিন হয়ে গেল — একবারের জন্যও মৃত সন্তানের পাশ ছেড়ে যায়নি এই হাতি দম্পতি। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এলাকার মানুষ, এমনকি বন বিভাগের কর্মকর্তারাও।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়ায় গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখছেন স্থানীয়রা। টিলার পাদদেশের ডোবায় শাবকের মরদেহের পাশ থেকে নড়ছে না হাতি দুটি। রাতে পুরুষ হাতিটি খাবারের সন্ধানে জঙ্গলে ঢোকে, তারপর ফিরে আসে। মা হাতিও খেয়েদেয়ে ছুটে আসেন সন্তানের কাছে।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ হাতি দম্পতির এই করুণ দশা তাঁদের চোখে পড়ে। এলাকাবাসীর ধারণা, শাবকটি অসুস্থ হয়ে মায়ের দুধ পান করতে না পেরে মারা গেছে।

শোকে কাতর, তাড়ানোও যাচ্ছে না
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি হয়ে মিয়ানমারে হাতি চলাচলের একটি পরিচিত রুট আছে। সেই পথে আসা বা যাওয়ার সময় ছয়-সাত মাস বয়সী শাবকটি টিলা থেকে ডোবায় পড়ে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শোকাহত মা হাতি কোনোমতেই বাচ্চার মরদেহ ছেড়ে যেতে চাইছেন না। তাড়িয়ে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তারা শোকে কাতর। শোকের ধকল না কমা পর্যন্ত কিছুই করা যাবে না। আপাতত হাতি দম্পতিকে বিরক্ত করতে চাই না।’

মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে হাতি দুটি চলে গেলে শাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হবে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হবে — অসুস্থতায় নাকি পাহাড় থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে শাবকটির। ততক্ষণ পর্যন্ত বন বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: