চন্দনাইশে ঝাড়ু মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ — আর তাতেই ফুঁসে উঠল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি জবাবদিহি চেয়ে দলের মহাসচিবকে চিঠি পাঠালেন এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমদের পুত্র ওমর ফারুক।
গত ৪ এপ্রিল বিকেলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে ঝাড়ু মিছিল বের করে। পোড়ানো হয় কুশপুত্তলিকা। ভাঙচুর করা হয় ওমর ফারুকের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড। ‘এলডিপির আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’ — এমন স্লোগানও ওঠে সেদিনের মিছিলে।
কিন্তু ঠিক কোন কারণে এই কর্মসূচি — সেটা কোথাও স্পষ্ট করা হয়নি। কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের উদ্ধৃতি নেই, নেই প্রেক্ষাপটের ব্যাখ্যাও। আর সেটাই এলডিপির আপত্তির কেন্দ্রে।
রোববার বিএনপির মহাসচিবকে পাঠানো চিঠিতে ওমর ফারুক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে আইনি পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
চিঠিতে চারটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর চাওয়া হয়েছে। কোন বক্তব্যকে ‘কটূক্তি’ ধরা হয়েছে? সেই বক্তব্যের পূর্ণ উদ্ধৃতি, তারিখ ও প্রেক্ষাপট কী? এই কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছিল কি না? এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কি এই কর্মসূচিকে সমর্থন করেন?
ওমর ফারুক চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পিতার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় সরকারি গেজেটেই স্বীকৃত — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট নং ৯৮, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৩। তাই এই অভিযোগ প্রমাণসিদ্ধ না হলে তা মানহানি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের শামিল বলেই মনে করছে এলডিপি।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চন্দনাইশ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ওমর ফারুক অল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপির জসিম উদ্দিনের কাছে হেরে যান। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সেই রেশ এখনও কাটেনি।
উল্লেখ্য, অলি আহমদ একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালে দল ছেড়ে কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে গড়েন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি।


