‘সাংগ্রাই মা ঞিঞি ঞাঞা’ — গানের এই সুর এখন ছড়িয়ে পড়েছে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি পাড়ায়। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই পোঃয়ে’ বা মৈত্রী বর্ষণ উৎসব। তাকে ঘিরে রুমাজুড়ে এখন আনন্দের বন্যা।
ঘরে ঘরে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন পোশাক তৈরি আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। তরুণ-তরুণীরা নাচ-গানের মহড়ায় ব্যস্ত, বয়স্করা মেতেছেন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি হচ্ছে নৌকা ও বিশেষ মঞ্চ। সাঙ্গু নদীর বালুচরে মৈত্রী বর্ষণের আয়োজন নিয়ে পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি।
রুমা উপজেলার বটতলী পাড়ার বাসিন্দা নুমংসিং মারমা বলেন, গত ছয় দিন ধরে নৌকা ও মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। এবার জাঁকজমকভাবে সাংগ্রাই উদযাপনের আশা রয়েছে তাঁর। তিনি জানান, তাঁদের পাড়ায় ম্রো, খুমি, চাকমা, ত্রিপুরাসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে পানি খেলায় অংশ নেবেন।
পলিকা পাড়া আয়োজন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মংমিন মারমা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সাঙ্গু নদীর বালুচরে মৈত্রী বর্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা জানান, চান্দা পাড়ায় নাচ-গান, পানি খেলা, কনসার্ট, পিঠা উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ নানা আয়োজন থাকছে।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। এ সময় গ্রামে গ্রামে রাতে পিঠা তৈরি, বয়স্কদের পূজা এবং প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধ স্নানের আয়োজন থাকবে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও লেগেছে উৎসবের ছোঁয়া — হাতে তৈরি অলংকার, ঐতিহ্যবাহী থামি পোশাক ও হস্তশিল্পের চাহিদা বেড়েছে।


