বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানো ও পূজার মধ্য দিয়ে রোববার শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু। সকাল সাতটায় চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষেরা জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে পূজা ও ফুল নিবেদন করেন।
ভোর থেকেই নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও শিশুরা বিভিন্ন স্থান থেকে ফুল সংগ্রহ করে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে কলাপাতায় সাজানো ফুলের ডালি নিয়ে নদীর তীরে জড়ো হন। মোমবাতি জ্বালিয়ে ফুল অর্পণ করে অতীতের ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাঁরা।
পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায় এই উৎসব ভিন্ন নামে পালন করে। মারমারা ‘সাংগ্রাই’, চাকমারা ‘বিজু’, ত্রিপুরারা ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিষু’ এবং চাক, ম্রো ও বমরা ‘চাংক্রান’ নামে উদ্যাপন করেন। সমতলের মানুষের কাছে উৎসবটি ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।
তিন দিনের এই উৎসবে আজ প্রথম দিন ফুল ভাসানো ও পূজা-অর্চনা। ১৩ এপ্রিল মূল বিজুতে ঘরে ঘরে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হবে। এদিনের বিশেষ পদ ‘পাচন’ — শতাধিক রকমের সবজি, মাছ ও শুঁটকি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী তরকারি। ১৪ এপ্রিল গুরুজনদের গোসল করিয়ে আশীর্বাদ নেওয়া এবং ভিক্ষু-সংঘকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে মঙ্গল সূত্র শোনার রীতি রয়েছে।
উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান।


