বছরের প্রথম দিনটা তাঁরা শুরু করেন জল দিয়ে। কারণ, জলই জীবন। সেই বিশ্বাস বুকে নিয়ে মঙ্গলবার খাগড়াছড়িতে সাংগ্রাই উৎসবে মেতে উঠল মারমা সম্প্রদায়। একই দিনে চাকমারা পালন করল বিজু, ত্রিপুরারা বৈসু। বৈসাবির আনন্দে পাহাড় যেন এক হয়ে গেল।
সকাল সাড়ে দশটায় জেলা সদরের পানখাইয়াপাড়া বটতলায় সাংগ্রাই র্যালির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত মারমা নারী-পুরুষ নাচে-গানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা। র্যালি শেষে শুরু হয় উৎসবের প্রাণ — জলকেলি। তরুণ-তরুণীরা একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে ভুলে যান সব ক্লান্তি, সব গ্লানি।
খাগড়াছড়ি রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক জলকেলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ মারমা সম্প্রদায়ের নেতারা।
জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সানু মং মারমা বলেন, ‘সাংগ্রাই মারমা সম্প্রদায়ের হাজার বছরের সংস্কৃতি। বছরের প্রথম দিনে জল দিয়ে শুরু করি, কারণ জলই জীবন।’
উৎসবে অংশ নেওয়া চিংলামং চৌধুরী বলেন, ‘এ উৎসবে সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করেন। এটাই সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
জলকেলি দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সাংবাদিকেরা। পাহাড়ের এই একটি দিন যেন সবার কাছেই আলাদা — রঙিন, প্রাণবন্ত আর অনন্য।


