Home কক্সবাজার সৌদিতে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা

সৌদিতে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা

পঞ্চাশ বছর আগের একটি সিদ্ধান্ত এখন নতুন করে জটিলতা তৈরি করছে। সত্তরের দশকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত কিছু রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছিল।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭

Share

পঞ্চাশ বছর আগের একটি সিদ্ধান্ত এখন নতুন করে জটিলতা তৈরি করছে। সত্তরের দশকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত কিছু রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের জের ধরে এবার সৌদিতে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।

২০১০ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশকে এসব রোহিঙ্গার পাসপোর্ট নবায়নের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। ২০২২ সালে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার হাতে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তে জেদ্দা কনস্যুলেট পাসপোর্ট দেওয়া শুরু করে। আড়াই বছরে ২১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে লাল-সবুজের এমআরপি পাসপোর্ট পেয়েছেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানান, সত্তরের দশকে পাসপোর্ট দেওয়ার সময় রোহিঙ্গাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। পাকিস্তান তাদের পাসপোর্টে ‘বিআর’ লিখে রোহিঙ্গাদের আলাদা রেখেছিল। বাংলাদেশ সেটা না করায় এখন কে রোহিঙ্গা, কে বাংলাদেশি— তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন গবেষক ড. বেনুকা ফেরদৌসী বলেন, পাসপোর্ট পাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য একটি আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠলে আরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করবে। এতে অভিবাসী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, বাংলাদেশ নিজেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে বারবার এই বোঝা বহন না করে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নন, তাই তাদের পাসপোর্ট দেওয়া উচিত নয়। তবে আগের সরকারের আমলে চাপের মুখে কিছু পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতে পাসপোর্ট দিতে হলে পাকিস্তানের মতো আলাদা চিহ্ন রেখে দেওয়া উচিত। তবে এই পাসপোর্টের সুবাদে ভবিষ্যতে নাগরিক সুবিধার দাবি উঠবে কিনা— সেই প্রশ্নের জবাব এখনও অনিশ্চিত।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: