চেঙ্গী নদীর বুক চিরে ভেসে আসছে বাঁশের বিশাল ভেলা। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পাহাড়ের গভীর থেকে কুতুকছড়ি বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর গড়িয়ে যায়। বাজারজুড়ে তখন কোলাহল— মুলি, ওরা, মিতিঙ্গা, ডুলু। নানা জাতের বাঁশ, নানা দাম। এই দৃশ্য রাঙামাটিতে প্রতিদিনের। পাহাড়ি এই বাঁশকে স্থানীয়রা ডাকেন ‘সবুজ সোনা’— আর সেই সোনাই এখন রাঙামাটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
প্রতি বছর এই জেলা থেকে প্রায় দুই কোটি বাঁশ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বন বিভাগের হিসাব বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংগ্রহ হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখের বেশি বাঁশ, যা থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে প্রায় চার কোটি টাকা। বাজারমূল্যে এই বাঁশের দাম ছাড়িয়ে গেছে শতকোটি টাকা।
বাঘাইছড়ির কাচালং, শিজক ও নাড়াইছড়ির সংরক্ষিত বন থেকে আসে সবচেয়ে বেশি বাঁশ। কাউখালী, নানিয়ারচর, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়িসহ আরও কয়েকটি উপজেলায় ছড়িয়ে আছে বাঁশের বাগান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে জড়িয়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ— পাহাড়ে বাঁশ কাটেন শ্রমিক, নদীতে ভেলা বাঁধেন মাঝি, হাটে বেচেন আড়তদার।
কিন্তু সম্ভাবনার এই খাতে সংকটও কম নয়। ব্যবসায়ী আবুল হাসান বলেন, চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত কর আর পরিবহনে নানা জটিলতায় লাভ হচ্ছে না। চাষি সময় চাকমার অভিযোগ, কারিগরি সহায়তা আর ঋণ সুবিধা সময়মতো মেলে না— তাই উৎপাদনও সম্ভাবনার ধারেকাছে পৌঁছাচ্ছে না।
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন মনে করেন, শুধু কাঁচামাল বেচলে এই শিল্পের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না। বাঁশ দিয়ে আসবাব আর হস্তশিল্পের কারখানা হলে পাহাড়ের অর্থনীতির চেহারাই বদলে যাবে।


