আট বছর ধরে মুদির দোকান চালান খাগড়াছড়ির মনদ্বীপ চাকমা (৫৬)। এই একটি দোকানের আয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। বড় ছেলে স্নাতকে পড়ছে, ছোটটি এবার এসএসসি দিচ্ছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দোকানের আয় কমেছে, বেড়েছে সংসারের খরচ। ধারদেনা আর এনজিওর ঋণ নিয়েই এখন টিকে আছেন তিনি। মনদ্বীপ বলেন, ‘বর্তমানে মুদি দোকানের আয় অনেক কমেছে। ধার দেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দিন চলছে। মুদির দোকানটি আছে বলেই সহজে এনজিও থেকে ঋণ পাই। নইলে উপায় ছিল না।’
শুধু মনদ্বীপ নন, এনজিওর ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন খাগড়াছড়ির বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দ্রব্যমূল্যের চাপে আয় কমছে, কিন্তু সংসারের খরচ বাড়ছেই। বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ।

মহালছড়ির পাইতুমা মারমার অবস্থা আরও করুণ। দশ বছরের বেশি সময় ধরে খাগড়াছড়ির বিচিতলা বাজারে রাস্তার ধারে কাপড়, মৌসুমী ফল আর শুঁটকি বেচেন তিনি। স্বামী বাসের সহযোগী, আয় অনিয়মিত। তিন সন্তান স্কুলে পড়ে। পুঁজি নেই বলে বড় ব্যবসাও করতে পারছেন না। পাইতুমা জানালেন, সম্প্রতি দৈনন্দিন খরচ এতটাই বেড়ে গেছে যে সপ্তাহে একদিনও মাছ-মাংস খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ‘স্বামীর কোনো স্থায়ী পেশা নেই, রোজগারও তেমন নেই। আয় সীমিত বলে বড় ব্যবসাও করতে পারি না’ — বললেন তিনি।
মধুপুর বাজারে সবজি বিক্রেতা মাধবী চাকমার কথাও একই সুরের। তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসা করে আর সংসার চলে না। সব জিনিসপত্রের দাম বাড়তি, আমাদের আয় সীমিত।’ মাধবীর মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে জীবনযাত্রার এই চাপ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
খাগড়াছড়ি শহরের মূল বাজারের আশেপাশে অন্তত আটটি ছোট বাজার রয়েছে। এসব বাজারে স্বল্প পুঁজি নিয়ে সবজিসহ নানা ব্যবসায় জড়িত শতাধিক পাহাড়ি নারী। এঁদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। স্বামীর অনিয়মিত আয় কিংবা স্বামীহীন সংসারে এই নারীরাই একা বহন করছেন সংসারের ভার। দ্রব্যমূল্য বাড়লে সবার আগে চাপ পড়ে এঁদের ওপরেই


