বৈশ্বিক সমর্থন ফেরাতে তৎপরতা, কক্সবাজারে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল
উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমিজুড়ে ৩৩টি ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি মানুষ। প্রায় নয় বছর ধরে। মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা এই মানুষগুলোর সংকট একসময় বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এখন সেই আলো নিভতে বসেছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আগে জাতিসংঘের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় গড়ে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল পাওয়া যেত। গত বছর থেকে তা কমে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। তিনি সরাসরি বলেন, “খাদ্য না থাকলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অসামাজিক কার্যক্রম কমাতে দাতাদের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।”
সাত দেশের প্রতিনিধি, দুই দিনের সফর
এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকটকে আবার বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে মাঠে নেমেছে জাতিসংঘ। ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপির যৌথ উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় কমিশন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত দুই দিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।
রোববার তারা ইউএনএইচসিআর রেজিস্ট্রেশন সেন্টার, অপুষ্টি চিকিৎসা কেন্দ্র, ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম, এলপিজি বিতরণ কার্যক্রম ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প দেখেন। সোমবার দেখেন স্কুল ফিডিং ও লার্নিং সেন্টার, নারী ও কিশোরীদের নিরাপদ কেন্দ্র এবং রোহিঙ্গা কালচারাল মেমোরি সেন্টার।
বিকেলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি হাইকমিশনার ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
‘১২ থেকে ১৪ লাখ রোহিঙ্গার চাপ স্থানীয়দের ওপর পড়ছে’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বৈঠকে প্রতিনিধিদের সামনে পুরো চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সীমিত আয়তনের কক্সবাজার জেলায় ১২ থেকে ১৪ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান স্থানীয় জনগণের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন নিজ নিজ সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেন।
কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা সংকটকে আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছে। তবে আশ্বাস আগেও মিলেছে। বাস্তবে তহবিল কমেছে, মনোযোগ সরেছে। ১২ লাখ মানুষের ভার বহন করতে করতে বাংলাদেশ এখন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায়।


