নৌকার ঢেউ, রিসোর্টের চেয়ারে চুয়ানো হালকা বাতাস, দূরের পাহাড়ে পাখির কুলকুল—কাপ্তাই হ্রদের তীরে প্রাণবন্ত এই প্রাকৃতিক পরিবেশ। পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণে যেতেন, ছোট ছোট শিশুদের খুশির চিৎকার বাতাসে ভেসে যেত। রিসোর্টগুলো সাজানো হতো ইফতার সেশনের জন্য, আর পরিবার-পরিজনগুলো হ্রদের ধারে বসে প্রস্তুতি নিতেন। শোভাময় আলো আর খাবারের সুগন্ধে ভেসে যেত পুরো হ্রদপাড়।
কিন্তু এবারের রমজানে চিত্র একেবারে ভিন্ন। রিসোর্ট, পড হাউস, বিনোদন কেন্দ্র—সব কিছুই ফাঁকা। বাতাসে কেবল হ্রদের ধীর ঢেউয়ের সুর। চেয়ার, টেবিল আর খোলা মাঠগুলো যেন পরিত্যক্ত।
অন্যান্য বছরে এই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার নিয়ে পর্যটকরা আসত। এবার কেউ নেই। ব্যবসায় ধস নেমেছে, কর্মচারী বেতন পাওয়ার জন্য হিমশিম খাচ্ছেন।
কাপ্তাইয়ের পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদ মৌসুমে পর্যটক ফিরলেই কেন্দ্রগুলো আবার পূর্ণ প্রাণ ফিরে পাবে।
নিঃসর্গ পড হাউসের পরিচালক সরোয়ার হোসেন বলেন, এমন ফাঁকা আগে কখনও দেখিনি। রমজানেও পর্যটকরা আসত, এবার একেবারে ফাঁকা। কর্মচারীদের বেতন দেওয়াও এখন বড় সমস্যা।
আফছার উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটক সংখ্যা কম। রমজান শেষে ঈদকে সামনে রেখে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আমরা কেন্দ্রগুলো সাজাই। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর।”
কেন্দ্রগুলোর কর্মচারীরা বলছেন, ব্যবসায়িক ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবিকাও ঝুঁকির মুখে। অনেকে বলেন, ঈদের আগে বেতন না পেলে আমাদের কষ্ট হবে। পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হবে।


