Home রাঙামাটি রমজানের বাজারে ধস! রাঙামাটির ভাসমান হাটে এক সপ্তাহে অর্ধেকে আনারসের দাম

রমজানের বাজারে ধস! রাঙামাটির ভাসমান হাটে এক সপ্তাহে অর্ধেকে আনারসের দাম

রমজানের শুরুতে চড়া দামে বিক্রি হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাঙামাটির পাইকারি বাজারে আনারসের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৩

Share

রমজানের শুরুতে চড়া দামে বিক্রি হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাঙামাটির পাইকারি বাজারে আনারসের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জেলার ভাসমান হাট সমতাঘাটে এখন নৌকাভর্তি আনারস। দাম কমায় কৃষকেরা কিছুটা শঙ্কিত হলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান দামে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের আগে আনারস ১০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৫ থেকে ২২ টাকায়। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমছে। তবে শীতের শেষের প্রভাবে সাইজ ছোট, এবং চৈত্র–বৈশাখে নতুন মৌসুমের বড় আনারস বাজারে আসতে শুরু করলে দাম আবার বাড়তে পারে।

নৌকাভর্তি আনারস নিয়ে সমতাঘাটে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসেন। প্রতি সপ্তাহের শনি ও বুধবার বসে এই বাজার। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাঙামাটিতে এ বছর ২ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।

লংগদু উপজেলার মধু চাকমা বলেন, বুধবার ৯ হাজার ৭০০ পিস আনারস বিক্রি করেছেন, প্রতি পিসের দাম ১৮ টাকা। রোজার আগে দাম ৩০–৪০ টাকা ছিল। বৃষ্টি না হওয়ায় আনারসের সাইজ ছোট হচ্ছে, তাই দাম কম।

তরুণ কৃষক ডিকু চাকমা বলেন, রোজার আগে প্রতি পিস ৩৫ টাকা বিক্রি করেছেন। এখন চাহিদা কমলেও উৎপাদন খরচ তুলনায় দাম এখনও সন্তোষজনক। তিনি জানান, চৈত্র–বৈশাখ মাসে বড় আনারস বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

ঢাকার ব্যবসায়ী আমিরুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও ভোক্তা চাহিদা কম থাকায় লোকসান হচ্ছে। নীলফামারী থেকে আসা ছাদেকুল ইসলাম বলছেন, পরিবহন খরচ অনেক, এক ট্রাক আনারস নিলামে নিয়ে যেতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাগে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শীতের প্রভাবে বাজারে চাহিদা কম। অনেক কৃষক রমজান লক্ষ্য করে আগাম উৎপাদন করেছে, তাই সরবরাহ বেড়েছে। তবে বর্তমান দামে কৃষকের লোকসান হওয়ার কথা নয়, এবং চৈত্র–বৈশাখে দাম আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: