Home রাঙামাটি ভোর পাঁচটায় লাইন, নয়টায় বিক্রি — রাঙামাটির পাম্পে এখন সেনা পাহারায় তেল মেলে দুই ঘণ্টা

ভোর পাঁচটায় লাইন, নয়টায় বিক্রি — রাঙামাটির পাম্পে এখন সেনা পাহারায় তেল মেলে দুই ঘণ্টা

ভোর তখনও ফোটেনি। কিন্তু রাঙামাটির পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে ততক্ষণে লাইন পড়ে গেছে। কেউ এনেছেন ট্যাংক, কেউ গ্যালন, কেউ বা প্লাস্টিকের বোতল। তেল বিক্রি শুরু হবে সকাল নয়টায় — কিন্তু সিরিয়াল হারানোর ভয়ে ভোর পাঁচটা থেকেই অপেক্ষার পালা শুরু।

পাহাড় সমুদ্র ডেস্ক

প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০

Share

জ্বালানি তেলের জন্য রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ি মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে দীর্ঘ সারি।

ভোর তখনও ফোটেনি। কিন্তু রাঙামাটির পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে ততক্ষণে লাইন পড়ে গেছে। কেউ এনেছেন ট্যাংক, কেউ গ্যালন, কেউ বা প্লাস্টিকের বোতল। তেল বিক্রি শুরু হবে সকাল নয়টায় — কিন্তু সিরিয়াল হারানোর ভয়ে ভোর পাঁচটা থেকেই অপেক্ষার পালা শুরু।

এটাই এখন রাঙামাটির নতুন বাস্তবতা। জ্বালানি সংকট সামলাতে জেলা প্রশাসন চালু করেছে রুটিন পদ্ধতিতে তেল বিক্রির ব্যবস্থা। সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। শহরের চারটি পাম্পে এখন তেল মেলে মাত্র দুই ঘণ্টা — সকাল নয়টা থেকে এগারোটা।

নিয়ম মেনে তেল, তবু ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে
প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম স্পষ্ট। প্রতি ট্যাংকে সর্বোচ্চ ১০ লিটার, যানবাহনে ২০ লিটার। বিশেষ প্রয়োজন প্রমাণ করতে পারলে কিছুটা বেশি মেলে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ কম থাকায় দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন শহরের পাম্পে। ফলে চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।

বরকল থেকে এসেছিলেন শরৎ কুমার চাকমা। নৌকা চালাতে আর পেঁপেখেতে সেচ দিতে ডিজেল দরকার তাঁর। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেলেন ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফিরলেন অর্ধেক মনে।

তিনি বলেন, ভোরবেলা এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। তেল পেয়েছি, কিন্তু যতটুকু দরকার ততটুকু পাইনি। খেতে সেচ দিতে পারব না, নৌকাও চালাতে পারব কিনা বলতে পারছি না।

পাম্পে পাম্পে হিসাব মেলানোর চেষ্টা
কল্যাণপুরের তান্যাবি এন্টারপ্রাইজে নির্ধারিত দুই ঘণ্টায় বিক্রি হয়েছে সাড়ে তিন হাজার লিটার ডিজেল। ব্যবস্থাপক সুফল চাকমা জানান, সময়সূচি মেনে চলায় চাপ কিছুটা কমেছে, তবু অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন।

রিজার্ভ বাজারের মহসিন স্টোর পাম্পে গতকাল বিক্রি হয়েছে চার হাজার লিটার অকটেন, আজ চার হাজার লিটার ডিজেল। বনরুপার হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনেও একই সময়সূচি মেনে চলছে বিক্রি।

ব্যবস্থাপক সুফল চাকমা বলেন, সময়সূচি মেনে বিক্রি করায় একটু শৃঙ্খলা এসেছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, এটা দেখতে কষ্ট লাগে।

রিজার্ভ বাজারের মহসিন স্টোর পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল বাতেন বলেন, আমরা নিয়ম মেনে বিক্রি করছি। কিন্তু মানুষ আসছেন অনেক বেশি, দেওয়ার মতো তেল নেই।

বনরুপার হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, সকাল নয়টা থেকে এগারোটা পর্যন্ত বিক্রি করি, তারপর বন্ধ। প্রশাসনের নির্দেশ মানছি, কিন্তু সরবরাহ না বাড়লে সংকট কাটবে না।

চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ, সংকট এখনও গভীর
জেলার ১০ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ আসছে প্রায় অর্ধেক। পর্যটন মৌসুম হওয়ায় কিছু এলাকায় চাহিদা আরও বেড়েছে। সংকট সামলাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালিত হচ্ছে।

‘পরীক্ষামূলক’, বলছে প্রশাসন
ভিজিল্যান্স টিমের জেলা আহ্বায়ক নিশাত শারমিন জানান, এই রুটিন পদ্ধতি এখন পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। পরিস্থিতি বুঝে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। অবৈধ মজুত রোধে পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসারের পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।

তবে ‘পরীক্ষামূলক’ শব্দটাই এখন ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পরীক্ষা শেষ হবে কবে, আর স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরবে কবে — সেই উত্তর এখনও মেলেনি।

সর্বশেষ :

আরও পড়ুন: