ইরান যুদ্ধের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এখন আঘাত করেছে অভ্যন্তরীণ নৌপথেও। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া লাইটার জাহাজগুলো পাচ্ছে না পর্যাপ্ত ডিজেল। ফলে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ব্যবধান উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) হিসাবে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি লাইটার জাহাজ চলাচলে আড়াই লাখ লিটার ডিজেল দরকার হয়। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার লিটার। ঢাকায় যেতে ও ফিরতে একটি জাহাজের দরকার সাড়ে তিন থেকে চার হাজার লিটার, পাচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ লিটার।
সংস্থার আহ্বায়ক হাজী শফিক আহমেদ বলেন, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা চাহিদা অনুযায়ী মেরিন ডিলারদের ডিজেল দিচ্ছে না। যতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে তাতে লাইটারগুলো পণ্য বোঝাই করলেও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত দিন বেশি অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
মিউচুয়াল শিপিংয়ের মালিক পারভেজ আহমেদ জানান, বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করলে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হয়। তাই কম তেলেই পণ্য খালাস করা হচ্ছে, কিন্তু এরপর গন্তব্যে যেতে পাঁচ থেকে সাত দিন অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে।
এ সমস্যা সমাধানে বিডব্লিউটিসিসি দুই দফায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে প্রায় ৮০টি বড় জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। এসব জাহাজে গম, খাদ্যশস্য, সার ও শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। শফিক আহমেদ বলেন, সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় প্রতি টন পণ্য পরিবহনে খরচ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা, লাইটার জাহাজে মাত্র সাড়ে পাঁচশ টাকা। সবচেয়ে সাশ্রয়ী এই পথটিই এখন বিপদে।


