ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে পারেনি সে। এটুকুই অপরাধ ছয় বছরের রেশমি ত্রিপুরার। প্রথম শ্রেণির এই ছোট্ট মেয়েটির সেই ‘অপরাধের’ শাস্তি দিলেন শিক্ষক — জোরে চড়-থাপ্পড়।
বুধবার সকালে বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের তির সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের দিকে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ক্লাস চলাকালীন রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন ফরিদুল। লিখতে না পারায় তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন তিনি।
সহপাঠীরাই তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয় এবং মা রজনী ত্রিপুরাকে বিষয়টি জানায়।
ক্ষোভে ফেটে পড়া মা স্কুলে ছুটে গেলেন। জানতে চাইলোন, কেন এভাবে মারা হলো তাঁর মেয়েকে?
সেই ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষক ফরিদুলকে অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তদন্তের আশ্বাস
লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, অভিভাবকের অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা অবশ্য জানাচ্ছেন, এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাননি তিনি। সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে সবাই ঘটনা জেনেছেন, সেভাবেই তিনিও জেনেছেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল আলমের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি।
ছয় বছরের রেশমি এখন কেমন আছে? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আর যে শিক্ষকের হাতে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল — তাঁকে আর কখনও স্কুলে দেখতে চান না রেশমির মা।


