আলাদা জমি নেই, বাড়তি খরচ নেই — তবু ফলছে ‘কালো সোনা’। আম-কাঁঠালের গাছ বেয়ে উঠে যাচ্ছে গোলমরিচের লতা, থোকা থোকা কালো দানায় ভরে উঠছে পাহাড়ের বাগান। খাগড়াছড়ির কৃষকদের মুখে এখন নতুন স্বপ্নের কথা — এই ‘কালো সোনা’ই বদলে দিতে পারে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতি।
একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল জুমচাষ। কালের বিবর্তনে সেই ছবি পাল্টেছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ের ঢালে এখন গড়ে উঠেছে আম, মাল্টা, লিচুর বাগান। এই বাগানগুলোকেই কাজে লাগিয়ে সাথি ফসল হিসেবে গোলমরিচ চাষের পরিকল্পনা করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় কৃষক লাপ্রু চাই মারমা ও রূপেন চাকমা জানান, আম ও কাঁঠাল বাগানের মোট ১০ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে গোলমরিচ চাষ করেছেন তাঁরা। বাড়তি জমির প্রয়োজন হয়নি। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ফলন পেয়েছেন। ফলনে সন্তুষ্ট তাঁরা।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক বলেন, গোলমরিচ লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় আম, কাঁঠালসহ যেকোনো বড় গাছে ভর করে বেড়ে ওঠে। সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক চাষে ইতিমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশে গোলমরিচের চাহিদার বড় একটি অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। প্রতি বছর প্রায় শত কোটি টাকার গোলমরিচ বিদেশ থেকে আনতে হয়। অথচ পার্বত্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অনাবাদী জমি ও অনুকূল আবহাওয়া এই ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস জানান, পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য আসায় কৃষক পর্যায়ে এই চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ, চারা বিতরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে কৃষকদের পাশে থাকছে কৃষি বিভাগ। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও কমে আসবে।
কৃষকেরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ে গোলমরিচ একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।


